ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ছয় লাখেরও বেশি পশু। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব পশু পাঠানো হবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সড়ক-মহাসড়ক ও নৌপথে পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও হয়রানির আশঙ্কা রয়েই গেছে। এ কারণে ব্যবসায়ী ও খামারিরা অনেকটা আতঙ্কিত। নির্বিঘ্নে পশু পরিবহন ও বিক্রির ব্যবস্থা করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক-মহাসড়ক ও নৌপথে পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও হয়রানি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের (বগুড়া অঞ্চল) পুলিশ সুপার মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’ তবে নগদ অর্থ বহনে বিরত থেকে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

টাঙ্গাইল অঞ্চল নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার সোহেল রানা বলেন, ‘যাত্রী ও পশু পরিবহনের সুবিধার্থে সিরাজগঞ্জ অংশ থেকে যমুনা নদীজুড়ে নিরাপত্তামূলক টহল ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এখানে ভয় বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য বলছে, জেলার নয়টি উপজেলায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৪টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এবার জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার। বাকি ৩ লাখ ৯৬ হাজার পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে। চরাঞ্চলে প্রচুর ঘাস জন্মে। সেখানে প্রাকৃতিক উপায়ে সহজেই গরু-ছাগল পালন করা যায়। জেলা সদর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, বেলকুচিসহ কাজীপুর উপজেলার নাটুয়াপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, তেকানী, মনসুরনগর, খাসরাজবাড়ী, চৌহালী উপজেলার উমারপুর, বাগুটিয়া, সোদিয়া চাঁদপুর, স্থল ও খাসকাউলিয়া এবং শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন চরে পশু পালন করা হয়।

তবে এবার পশু পরিবহনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, সড়ক পথে ট্রাক ও নছিমন-করিমনে পশু নিতে গেলে চাঁদা দিতে হয়। নৌপথে পশু পরিবহনের সময় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। একইভাবে নৌপথেও কিছু এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে পশু নামিয়ে নেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

কামারখন্দের ব্যবসায়ী আব্দুর কাদের বলেন, ‘যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কের কড্ডা ছাড়া পরিবহনের বিকল্প পথ নেই। সম্প্রতি মহাসড়কে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এজন্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন। আমরা সারা বছর কষ্ট করে গরু পালন করেছি, ডাকাতির কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না।’

তবে পশু পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে এবার প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কোরবানির ঈদে যেন ডাকাতি বা চাঁদাবাজি না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। আমাদের একাধিক টিম থাকবে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। পশুবাহী যানবাহন এবং হাটকেন্দ্রিক যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদারে সতর্ক থাকবেন পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।’

সার্বিক বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায় বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পশু পরিবহন ও বিক্রি নিরাপদ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’