পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু সড়কটি আগের মতো সরু রয়ে গেছে। গেল এক বছরে এ সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যাও কম নয়। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের ভুরঘাটা থেকে নথুল্লাবাদ পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটারে চলতি বছরের নয় মাসে ৪০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছে ২৩ জন। গুরুতর আহত হয়েছে ৪০ জন। আর সাধারণ আহত হয়েছে ৫০ জন।

তার পরও সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কে আতঙ্ক নিয়েই যাতায়াত করছে বিলাসবহুল পরিবহন। মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে মহাসড়কের ৩২ কিলোমিটারে প্রায় ৩০টি ব্লাক স্পট বা দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাতে বাসে চলতে ভয় হয়। কারণ ভুরঘাটা থেকে কাশিপুর পর্যন্ত সড়ক এতটা সরু যে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।’ তিনি এ মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত প্রশস্তকরণের তাগিদ দেন।

২৬ জুলাই বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদীর আশোকাঠিতে দুই বাসের সংঘর্ষে একটি বাস ছিটকে ডোবায় নিমজ্জিত হয়। বাসটির ভেতরে থাকা নারী-শিশুসহ অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হন। ৬ আগস্ট মহাসড়কের ইল্লার মধ্যবর্তী স্থানে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রলির সংঘর্ষে আব্দুর রহমান সোহাগ (২২) নামে এক বাসযাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।

নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের কয়েকটি বাস মালিক ও চালকরা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর অনেক নতুন পরিবহন যেমন—গ্রিন লাইন, এনা, সোহাগ, ইলিশ এ রুটে চলাচল শুরু করেছে। কিন্তু সে তুলনায় সড়ক যেমন প্রশস্ত হয়নি তেমনি বাস ও ট্রাকের জন্য আধুনিক টার্মিনালও নেই। বিলাসবহুল এসব পরিবহন এ রুটে চলাচল অনেকটাই অসম্ভব বলে তারা জানান।

হাইওয়ে পুলিশের গৌরনদী থানার ওসি গোলাম রসুল জানান, সড়কটিতে জানুয়ারিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে চার, ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ, মার্চে চার, এপ্রিলে সাত, মে মাসে এক, জুনে পাঁচ, জুলাইয়ে ছয়, আগস্টে সাত ও ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুর্ঘটনা হয়েছে একটি।

গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভুরঘাটা থেকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার সড়কে ৩০টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান রয়েছে। এগুলো ভুরঘাটা, ইল্লা, বার্থী, তারাকুপি, কটকস্থল, সাউদেরখাল পাড়, নীলখোলা, টরকি, গয়নাঘাট, পালরদী, গৌরনদী, আশোকাঠি, কাসেমাবাদ, বেজহার, মাহিলারা, বাটাজোর, বামরাইল, সানুহার, জয়শ্রী, ইচলাদী, সাকুরা ফিলং স্টেশন, শিকারপুর দোয়ারিকা টোল প্লাজা, মেজর এমএ জলিল সেতু, নতুনহাট, রহমতপুর ব্রিজ, রেইনট্রিতলা ও ব্র্যাক অফিস মোড়।

এ ব্যাপারে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকা বরিশাল মহাসড়কে ইদানীং বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। গত আগস্টে চারটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুটিতেই বাস পানিতে পড়ে গেছে। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে উদ্যোগ নিচ্ছি। এ স্থানগুলো মূলত ঝুঁকিপূর্ণ, অতিঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ ক্যাটাগরির। দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু স্থানে মার্কিং করে দিচ্ছি।’