বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য জানান তারা। দেশের শীর্ষস্থানীয় কিডনিবিষয়ক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস) ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও কিডনি রোগ: ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাম্পসের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. এমএ সামাদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত, যা ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ এবং ক্যান্সার রোগীর চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি। ১৯৯০ সালে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগের অবস্থান ছিল ১৯তম। বর্তমানে এটি সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে এটি পঞ্চম স্থানে পৌঁছবে। উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় এ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।

অধ্যাপক ডা. এমএ সামাদ জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার কিডনি রোগী বেঁচে থাকার জন্য ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এছাড়া আরো ২৪-৩০ হাজার রোগীর হঠাৎ কিডনি বিকল হয়ে সাময়িক ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধি (তাপপ্রবাহ), পানিতে লবণাক্ততা এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট জলবায়ু পরিবর্তনের এ বিরূপ প্রভাবগুলো কিডনি রোগকে আরো ত্বরান্বিত করছে। অতিরিক্ত চিকিৎসা খরচের কারণে সিংহভাগ রোগী প্রায় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করে, যা পরিবার ও রাষ্ট্রের ওপর বিশাল অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ বলেন, ‘ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপের হার কমাতে না পারলে কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন হবে। অসচেতনতাই মূল কারণ, আমরা জানি কিন্তু মানি না, ঝুঁকি জেনেও কেউ টেস্ট করাতে যাই না অথচ প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ধরা পড়লে কিডনি রোগ নিরাময় সম্ভব। তবে তৃতীয় বা পরের ধাপে গেলে একেবারেই সুস্থ করা যায় না।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কিডনি রোগীর সংখ্যা এখন প্রায় চার কোটি। প্রধানত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের কারণে তা দ্রুত বাড়ছে এবং ডায়ালাইসিসের সুযোগ ৬৫ শতাংশই ঢাকায় কেন্দ্রীভূত।’