কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘শুধু খাদ্যনিরাপত্তা নয়, খাদ্য নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করাও জরুরি। খামারিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি নিরাপদ আমিষ উৎপাদনেও গুরুত্ব দিতে হবে।’
গতকাল বরিশালে প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগে বিভাগীয় অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরের হোটেল গ্র্যান্ড পার্কের কনফারেন্স হলে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।
রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই, যদি আমরা খাদ্য নিরাপদ রাখতে না পারি। খাদ্য নিরাপদের ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বড় ভূমিকা রয়েছে। নিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে শুধু খাদ্য সমস্যা নয়, স্বাস্থ্য সমস্যাও সমাধান সম্ভব।’
দুধ উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সামগ্রিকভাবে দুধ উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে। এখনো আমদানি করতে হয়। প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে দুধ আমদানি বন্ধ করা সম্ভব হবে এবং তা খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
প্রাণিসম্পদ খাতে বরিশাল বিভাগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ফরিদা আখতার বলেন, ‘এখানে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি; বিশেষ করে মহিষ পালনের বড় সুযোগ রয়েছে। ভোলা জেলায় মহিষের খামার দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। মহিষের দুধের দই জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।’ এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির জন্য মহিষের দুধ উৎপাদন ও লালন-পালন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নারী খামারিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পশুপালনে নারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাদের আরো সমৃদ্ধ হতে হবে এবং প্রকল্পের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
তরুণদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণরা যেমন দেশে পরিবর্তন এনেছে, তেমনি তারা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে।’










