রেলপথে কুমিল্লার সঙ্গে চট্টগ্রামের সংযোগ স্থাপনে মিরসরাইয়ে নির্মাণ করা হয় চিনকি আস্তানা রেলওয়ে স্টেশন। পাশাপাশি নির্মাণ করা হয় নিজামপুর, বড়তাকিয়া, মিরসরাই ও মন্তাননগর রেলওয়ে স্টেশন। এসব স্টেশন একসময় ছিল কোলাহলপূর্ণ। এর মধ্যে চিনকি আস্তানা রেলওয়ে স্টেশন চালু রয়েছে। স্টেশন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বাকি চারটি বন্ধ রয়েছে। অযত্ন-অবহেলায় চুরি হয়ে যাচ্ছে স্টেশনগুলোর মূল্যবান যন্ত্রপাতি। অনেক স্টেশন পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের আস্তানায়। দখল হয়ে যাচ্ছে রেলওয়ের জমি। ভোগান্তিতে পড়েছে মিরসরাই-সীতাকুণ্ডের রেলযাত্রীরা।
পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডে গঠিত আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি এ দেশে রেলপথ নির্মাণের দায়িত্ব নেয়। ১৮৯৫ সালে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১৪৯ কিলোমিটার মিটার গেজ রেলপথ নির্মিত হয়েছিল। লাকসাম থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত ৬৯ কিলোমিটার রেললাইন জনসাধারণের জন্য খোলা হয়। চট্টগ্রাম-কুমিল্লা লাইনের স্টেশন হিসেবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চিনকি আস্তানা রেলওয়ে স্টেশন তৈরি করা হয়। পাশাপাশি নির্মাণ করা হয় নিজামপুর, বড়তাকিয়া, মিরসরাই ও মন্তাননগর রেলওয়ে স্টেশন। তবে বর্তমানে চিনকির আস্তানা রেলওয়ে স্টেশনটি চালু থাকলেও বাকি চারটি বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে চিনকির আস্তানা স্টেশনে থামে তিনটি ট্রেন। তিনটি ট্রেনে দৈনিক ১৫০-২০০ জন যাত্রী যাতায়াত করেন। এছাড়া বড়তাকিয়া স্টেশনে শুধু নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস থামে। লোকবল সংকটের কারণে বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো চালু করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ২০০৮ সালে আয় কমে যাওয়া ও লোকবল সংকটের কারণে মিরসরাই স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মিরসরাই সদর রেলস্টেশন পুনরায় চালুর লক্ষ্যে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে থেমে যায় কার্যক্রম। এরপর গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটি আর চালু করা হয়নি।
সরজমিন সদর ইউনিয়নের তালবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত মিরসরাই রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, জনমানবশূন্য স্টেশনটিতে স্থানীয়রা ধান শুকাচ্ছেন। এক পাশে গরু ও ছাগল বিচরণ করছে। স্টেশনের বিভিন্ন কক্ষের মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে।
জানতে চাইলে চিনকি আস্তানা স্টেশন মাস্টার সিরাজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘লোকবল সংকটের কারণে স্টেশনগুলো বন্ধ রয়েছে। একটা স্টেশন বন্ধ থাকলে তার পরবর্তী স্টেশনটির সঙ্গে সঠিক সিগন্যাল পাওয়া যায় না। ফলে ট্রেন নির্দিষ্ট গতিতে চলাচল করতে পারে না। লোকবল নিয়োগ দেয়া হলে স্টেশনগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব।’










