আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিই এখন মূল চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আইন-শৃঙ্খলা। যত দ্রুত সম্ভব আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা যায়। পাশাপাশি আমি কৃষি মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব রয়েছি, সেখানে আমার লক্ষ্য কীভাবে উৎপাদন বাড়িয়ে লোকজনকে খাওয়াতে পারি বেশি।’ গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

এর আগে সকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইসের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মশিউর রহমান এনডিসি, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দপ্তরের সিনিয়র মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওনারা আমাদের কী ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারেন, সে বিষয়ে মূলত আলোচনা হয়েছে। আমরা কোন কোন খাতে সহযোগিতা চাচ্ছি, সেটাও আলোচনায় উঠে এসেছে।’ রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও আলাপ হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে তারা সহযোগিতা করছে, আমরা আরো সহযোগিতা চেয়েছি। ১ দশমিক ২ মিলিয়ন রোহিঙ্গা, প্রতিদিনই তাদের বাচ্চা বাড়ছে, খরচ বাড়ছে। আমাদের পক্ষে কত দিন এ খরচ বহন করা সম্ভব!’

উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘জাতিসংঘ থেকে যে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন আসার কথা, সেটা তারা পাঠাবে। সেক্ষেত্রে তারা কোন ধরনের সহযোগিতা করবে, আমরা কোন ধরনের সহযোগিতা চাই—এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আসতে পারে।’

গতকাল সকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। পরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে যান। তিনি আহত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। আহত পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম, র‍্যাবের মহাপরিচালক এএকেএম শহিদুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।