বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন তার দায়িত্বের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ করেছেন। এ উপলক্ষে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্বকে ‘আরো গভীর ও বিস্তৃত’ হওয়ার পথে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশকে আরো সমৃদ্ধ করবে উল্লেখ করেন।

মার্কিন দূতাবাস প্রকাশিত ভিডিওর শুরুতে তিনি বলেন, ‘আমি ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার আগমনের আজ ১০০ দিন পূর্ণ হলো। আমি ও আমার স্ত্রী ডিয়ান বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে অভাবনীয় উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছি। আমরা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশকে জানার সুযোগ উপভোগ করছি।’

তিনি আরো জানান, তারা সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণ করছেন, পহেলা বৈশাখের উৎসবে আনন্দ করেছেন, প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ দেখেছেন এবং একজন স্থানীয় ব্লগারের সঙ্গে নতুন নতুন খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু তাদের চাওয়ার ছিল না বলেও উল্লেখ করেন ক্রিস্টেনসেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এখানে এসেছি। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঠিক আগে। আমার দেশ যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ হিসেবে নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সুষ্পষ্ট রূপরেখা নির্ধারণ করেছেন। আর আমি তা বাস্তবে রূপান্তর করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’

বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এটি আমাদের বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং উভয় দেশকে আরো সমৃদ্ধ করবে। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে আমি বাংলাদেশের সর্বত্র মার্কিন ব্যবসায়ীদের হয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

অভিবাসন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা জালিয়াতি মোকাবেলায় একত্রে কাজ করছি এবং একটি অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা অংশীদারত্ব নিশ্চিত করছি। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি নতুন স্বাস্থ্য অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা যক্ষ্মা ও হামের মতো রোগ মোকাবেলা করছি। এছাড়া আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থাকা বৃহত্তম দাতা দেশ হিসেবে আমাদের অবস্থান ধরে রেখেছি। সেই সঙ্গে এই সমস্যার একটি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন প্রসঙ্গে বলেন, আরো একটি বিশেষ বছরে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি এবং সামনে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম জন্মদিন। আশা প্রকাশ করেন যে সবাই তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন, কারণ বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ বার্ষিকী উদযাপন করা হবে।

শেষে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘১০০ দিন পর আমি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরো বেশি আশাবাদী। আমরা সামনে আরো কী কী অর্জন করতে পারব, তা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। সবাই ভালো থাকবেন, আবার দেখা হবে।’