শহর বা পৌর এলাকার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা। প্রথমে দ্বিতীয় শ্রেণীর হলেও ১৯৯৩ সালে এটি প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়। নয়টি ওয়ার্ডে বিভক্ত পৌরসভায় এক লাখের বেশি মানুষের বাস। প্রায় ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌরসভায় ৬০ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। তার বেশির ভাগই বেহাল। বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে তৈরি হয়েছে গর্ত। এতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন পথচারী ও যাত্রীরা।
প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা গঠনের শর্তানুযায়ী, পৌর এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, শিল্প এলাকা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। এছাড়া সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। সর্বোপরি নির্দিষ্ট জনসংখ্যা ও উন্নত অবকাঠামো থাকতে হয়।
পৌরসভার বাসিন্দারা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। আবার এমনও সড়ক রয়েছে, যা বছর দুয়েক ধরেই বেহাল। এসব সড়কের কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সড়কে সংস্কারকাজ না করার অভিযোগও তুলেছেন তারা।
শহরের দক্ষিণ কোর্টগাঁও এলাকার কাউসার আহমেদ বলেন, ‘প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও সড়ক যোগাযোগে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। দক্ষিণ কোর্টগাঁও এলাকার লিচুতলা থেকে যে সড়কটি শহরের পুরনো কাছারি মোড় গেছে, সেটির অবস্থা একেবারেই নাজুক।’
অটোরিকশাচালক মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘গাড়ি নিয়ে বের হলে ঝাঁকুনিতে অনেক সময় অটোরিকশা ব্যাটারি খুলে পড়ার উপক্রম হয়। কোনো দিন আবার গাড়ির ব্রেক ভেঙে যায়। ভাড়া গাড়ি চালাই, কিছু হলেই মালিক আমাদের দোষারোপ করেন।’
সরজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার দক্ষিণ কোর্টগাঁও এলাকার লিচুতলা থেকে পুরনো কাছারি হয়ে সুপার মার্কেট পর্যন্ত সড়কটি পুরনো, পুরনো বাসস্ট্যান্ড থেকে হাটলক্ষ্মীগঞ্জ লঞ্চঘাট, ইসলামী ব্যাংক থেকে পৌর পানি শোধনাগার পর্যন্ত সড়ক ভাঙা। এছাড়া যোগিনীঘাট থেকে রমজানবেগ, কাটাখালী ব্রিজ থেকে বাজনাবাড়ি, পশ্চিম দেওভোগ বিলেরকানি থেকে প্রয়াত পৌর কর্মচারী শাহ আলম শেখের বাড়ি পর্যন্ত, মানিকপুর দশতলা থেকে গনকপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কে অসংখ্য গর্ত। পুরনো কাছারি সড়কটি দিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, গণপূর্ত, জজকোর্ট ও সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিসে যাতায়াত করেন সেবাপ্রার্থীরা। এ কারণে দিনভর যানবাহন চলাচল করে সড়কটি দিয়ে। এ সড়কও ভাঙা। বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পশ্চিম দেওভোগ বিলেরকানি, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ সড়ক, যোগিনীঘাট-রমজানবেগ সড়ক। সড়কগুলোয় গত এক দশকে কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি বলে সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, সম্প্রতি শহরের গুরুত্বপূর্ণ মানিকপুর এলাকার দশতলা থেকে থানারপুল, কাছারি এলাকার শহীদ মিনার থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সড়কে নামকাওয়াস্তে সংস্কারকাজ করা হয়েছে। বৃষ্টিতে সড়কের কোনো কোনো স্থানে নতুন করে গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। অল্পদিনেই এ সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। সংস্কারের পর পরই অটোরিকশা কিংবা মিশুকে করে চলাচল করতে বেশ ঝাঁকুনি খেতে হয়।
বিলেরকানি সড়কজুড়েই গর্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরের পশ্চিম দেওভোগ এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী ফয়সাল শেখ। তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে পশ্চিম দেওভোগ থেকে বিলেরকান্দি আম্বিয়া মসজিদ পর্যন্ত সড়কে সংস্কার করা হয়নি। ছোঁয়া পড়েনি। কবে হবে এ সড়কের সংস্কার তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. মোশারফ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সম্প্রতি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল একটি সড়কের আংশিক সংস্কারের জন্য। তবে টানা বৃষ্টিতে সড়কটিতে ফের গর্ত তৈরি হয়েছে। পৌরসভার অনেক সড়কই বেহাল। সংস্কারসহ পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রায় ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেটি মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে। প্রকল্পটি ছাড় হলে আশা করছি সড়কের সমস্যা সমাধান হবে।’










