পটুয়াখালী পৌর শহরের বেশির ভাগ সড়কই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শহরের একাধিক ওয়ার্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাঁচ-ছয় বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগীরা চরম ভোগান্তিতে চলাচল করছেন। এসব সড়ক সংস্কারে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার বলেও কোনো সুফল মেলেনি। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরদেরও কোনো মাথাব্যথা নেই।
সরজমিনে দেখা যায়, শহরের ১ নং ওয়ার্ডের ২নং বাধঘাট থেকে পাকার মাথা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দের কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে। ফলে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় ঘটে নানা দুর্ঘটনা। বর্ষা মৌসুমে সড়কে জমে থাকে পানি। গাড়ির চাকায় কর্দমাক্ত পানি ছিটে পথচারীদের পোশাক নষ্ট হয়।
৩নং ওয়ার্ডের লোহালিয়া খেয়াঘাটসংলগ্ন বেড়িবাধ সড়কটি দীর্ঘদিন ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেই। এছাড়া লোহালিয়া খেয়াঘাট থেকে মুকুল সিনেমা হল মোড় পর্যন্ত সড়কটিরও বেহাল দশা।
৫ নং ওয়ার্ডের সবুজবাগ মোড় থেকে মুক্তি ক্লিনিক মোড় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পিটিআই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
৭ নং ওয়ার্ডে সোনালী ব্যাংক মোড় থেকে ফটিকের খেয়াঘাট পর্যন্ত সড়কটি ভরে গেছে। অথচ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ডিসি অফিস, এসপি অফিস, বন বিভাগ, গণপূর্ত অফিস, কর অফিস, মৎস্য অফিস, সড়ক ও জনপথ অফিস, পরিবেশ অফিস, মাদকদ্রব্য অফিস ও ফায়ার সার্ভিস অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হয়। বর্ষা মৌসুমে সড়কের এসব গর্তে পানি জমে ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দেয়।
৮ নং ওয়ার্ডে মাধবারবাড়ী মোড় থেকে হেতালিয়া বাধঘাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণ ভাঙাচোরা। অথচ সড়কটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই পৌর কর্তৃপক্ষের।
৯ নং ওয়ার্ডে মহাসড়ক থেকে ফজলে করিম মৃধাবাড়ী পর্যন্ত সড়কটি কয়েক বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া পাড়া-মহল্লার ছোট সড়কগুলোর একই অবস্থা।
১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অটোরিকশাচালক তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘বাধঘাট থেকে পাকার মাথা পর্যন্ত সড়কটি সাত-আট বছর ধরে এভাবে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। এ কারণে যাত্রীরাও গাড়িতে উঠতে চান না। আমার অটো চালানোর বয়সে এ রকম খারাপ রাস্তা দেখি নাই। পৌরসভা থেকে একটি ইটও এ রাস্তায় ফালায়নি।’
৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিকাশ হাওলাদার ও সাদ্দাম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন শহরের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অনেক দিন পড়ে আছে ভাঙা অবস্থায়। এ সড়ক দিয়ে পিটিআইসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হতে হয় পথচারীদের। বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায় সড়কের বিভিন্ন অংশ।
পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, যেসব সড়ক ভাঙাচোরা আছে সেগুলো কিছুদিনের মধ্যে সংস্কার করা হবে। জটিলতার কারণে পিটিআই সড়কটি বাকি থাকবে। তবে সেটাও নভেম্বরের মধ্যে হয়ে ঠিক হয়ে যাবে। আর ২ নং বাধঘাট থেকে পাকার মাথা পর্যন্ত সড়কটি এলজিইডির লোহালিয়া ব্রিজের সঙ্গে যুক্ত করে টেন্ডার দেয়া হয়েছে।’










