চাঁদপুর নৌ-সীমানায় পদ্মা-মেঘনার পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাশের অনেক চরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া শহরতলির নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সবশেষ পরিমাপ অনুযায়ী, মেঘনা নদীর পানি বিপত্সীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের পানি বেড়ে বিপত্সীমা অতিক্রম করেছে। যেকোনো সময় শহরতলির নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে মেঘনা নদীর পশ্চিমে চরাঞ্চলের অনেক বসতবাড়ি ডুবে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘনার পানি বেড়েছে ৪ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। বাতাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পানির উচ্চতা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মেঘনার পানি বিপত্সীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বাতাসের তীব্রতায় নদীতে ঢেউ বেড়েছে।

হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, ইউনিয়নের ইশানবালা এলাকায় মেঘনার পানি বেড়ে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়নের মধ্যচর এলাকায় বসতঘর ও স্কুল পানিতে তলিয়ে গেছে। গত কয়েকদিন ধরেই পানি বাড়ছে। এতে পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একই উপজেলার আলগী উত্তর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মহসিন মিয়া জানান, মেঘনার পানি সকালে ও রাতে জোয়ারে বেশি বাড়ে। এখনো লোকালয়ে প্রবেশ করেনি। তবে পানি বাড়লে যেকোনো সময় বেড়িবাঁধের বাইরের এলাকা প্লাবিত হতে পারে। বিশেষ করে মাছচাষীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন।

সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের চরফতেজংপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মনসুর খান জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে উঁচু রাস্তাগুলোয় পানি না উঠলেও নিচু রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে গেছে। বিশেষ করে জোয়ারের সময় হাঁটুসমান পানি হয়।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘনা নদীর পানি বেড়েছে ৪ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। রোববার থেকে বাতাসের তীব্রতা বেড়েছে। আজ পানির উচ্চতা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাতাসের তীব্রতা কমলে তখন পানি বিপত্সীমার নিচে নামবে। সবশেষ পরিমাপ অনুযায়ী, মেঘনা নদীর পানি বিপত্সীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, চাঁদপুর শহর রক্ষাবাঁধের পর থেকে সদর ও হাইমচর উপজেলার প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকার নদী তীর রক্ষাবাঁধ রয়েছে মেঘনা উপকূলে। পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে এসব এলাকার বাঁধে এখনো কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। তার পরও আমরা সতর্ক।