বগুড়ায় যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর পানি বেড়ে সৃষ্ট বন্যায় চার উপজেলার প্রায় পৌনে ২১ কোটি টাকা মূল্যের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অফিস বলছে, বন্যায় আড়াই হাজার কৃষকের ১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার মধ্য দিয়ে যমুনা নদী এবং শেরপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বাঙালি ও করতোয়া নদী বয়ে গেছে। গত জুনের শুরু থেকেই যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর পানি বাড়তে থাকে। যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে যমুনার শাখা বাঙ্গালী নদীতেও পানি বাড়ে। স্বভাবগতভাবে দুটি নদীই ভাঙনপ্রকৃতির। চলতি বছরের জুন থেকে নদী দুটিতে পানি বেড়ে প্রথমে নদী এলাকার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর গত ১৭ জুন বিকালে যমুনা নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করে। পর্যায়ক্রমে ২১ জুন যমুনা নদীর পানি বিপত্সীমার সর্বোচ্চ ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে করে বন্যা সৃষ্টি হয়ে ৮৪টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। প্রায় দেড় লাখ মানুষ বন্যার শিকার হয়। ২২ জুুন থেকে বন্যার পানি কমতে থাকে। কয়েকদিন পানি কমে ২৮ জুন পর্যন্ত যমুনার পানি বিপত্সীমার ৭৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ কদিনের বন্যায় জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট, সোনাতলা ও শেরপুর উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চার উপজেলা মিলিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমি ১ হাজার ৬১০ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ, সবজি, পাট, ভুট্টা, বীজতলা ও আখ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাটের। মোট ১ হাজার ১১০ হেক্টর পাটখেত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাটের পর ক্ষতি হয়েছে আউশ ধানের। আউশ ধানের জমি নষ্ট হয়েছে প্রায় ৫০০ হেক্টর। চার উপজেলা মিলিয়ে বন্যায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫৮১ হেক্টর জমির ফসল। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ৩১৩ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত জমির ফসলের আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৬৮ লাখ ৪৪ হাজার। চার উপজেলা মিলিয়ে কৃষকের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার।
সারিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের শাহজাহান আলী বলেন, সাত বিঘা জমির আধাপাকা কাউন পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া আট বিঘা জমিতে পাট ছিল, তার মধ্যে মাত্র তিন বিঘা জমির পাট আধাপাকা অবস্থায় কোনোমতে কেটে নিতে পেরেছেন। বাকি জমিতে পানি উঠেছে। কিছু জমির পাট পানিতে তলিয়ে থাকায় বেশ ক্ষতি হয়েছে। এখন জমি থেকে পানি নেমে গেছে। তার পরও কিছু পানি আছে তাতে পাটের কোনো ক্ষতি হবে না, কিন্তু যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দুলাল হোসেন জানান, বন্যায় কিছু কিছু কৃষকের ফসলের আংশিক আবার কিছু কৃষকের পুরোটায় ক্ষতি হয়েছে। এসব কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে। ২৭ জুন পর্যন্ত আর্থিকভাবে চারটি উপজেলার প্রায় পৌনে ২১ কোটি টাকার মতো ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে মাঠপর্যায়ে কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির সামগ্রিক চিত্র তুলে এনেছেন কৃষি কর্মকর্তারা। বন্যার পর সহনশীল ফসল চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত বিপত্সীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের ঢল বা পানি প্রবাহ বেশি হলে বগুড়া অঞ্চলে সাধারণত বন্যা দেখা যায়। এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। দ্রুতই বন্যা শেষ হয়েছে।










