প্রেসিডেন্ট পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটে। তার পরও জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়া বা অন্তত গণমাধ্যমে কোনো বিবৃতি দেননি তিনি। প্রায় দুদিন ধরে এ নিয়ে কোথাও কোনো আলোচনাও নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এক অজানা আশঙ্কা জেঁকে বসেছিল উত্তর আফ্রিকার দেশ শাদের নাগরিকদের মধ্যে।
তাদের সে আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করে ২০ এপ্রিল এক বিবৃতি প্রকাশ করে শাদের সেনাবাহিনী। এতে বলা হয়, আগের দিন বিদ্রোহী ফ্রন্ট ফর চেঞ্জ অ্যান্ড কনকর্ড ইন শাদের (ফ্যাক্ট) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস দেবি মারাত্মক আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
আকস্মিক এ ঘোষণা দেশটির জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের সন্দেহের উদ্রেক করে। তার মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ হিসেবেও সন্দেহ করছেন অনেকে। কারণ ৩০ বছরের শাসনামলে ইদ্রিস দেবি ইতনো কখনই নিজের সৈনিক পরিচয়কে ত্যাগ করেননি। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও বিভিন্ন সামরিক অভিযানে নিজেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু ঠিক নির্বাচনের ফলাফলের ঘোষণার দিনই তার স্বয়ং যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার বিষয়টি অনেকেই মানতে পারেননি।
এ ঘোষণার পর বন্ধ করে দেয়া হয় সীমান্ত। রাজধানী এন’জামেনার রাস্তায় ট্যাংক নেমে আসে। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ঘিরে রাখার পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও মোতায়েন করা হয় ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান। দোকানপাট-বাজার খোলা থাকলেও থমথমে পরিস্থিতি নেমে আসে শহরে।
বিষয়টি নিয়ে শাদের নাগরিকদের সন্দেহ আরো জোরালো হয় সেনাবাহিনীর পরদিন ঘোষণা করা আরেক বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, শাদের পার্লামেন্ট ও সরকার দুটোই ভেঙে দেয়া হয়েছে। এর বদলে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক কাউন্সিল ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। এ কাউন্সিলের নেতা হিসেবে দেশের শাসনভার হাতে তুলে নিয়েছেন ইদ্রিস দেবির ছেলে ও দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান মাহামাত দেবি ইতনো।
ইদ্রিস দেবির শাসনামল নিয়ে দেশটির নাগরিকদের অনেকের মধ্যেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে তার এভাবে ‘অপমৃত্যু’ এবং এর ঠিক পরপরই ছেলের ক্ষমতা দখল করে নেয়ার বিষয়টিকে সহজভাবে নিচ্ছে না শাদের কেউই। এন’জামেনার এক নারী ব্রিটিশ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ইদ্রিস দেবি যেভাবে মারা গিয়েছেন, সেটি আমি মানতে পারছি না। বিষয়টি এমন নয়, আমরা তার শাসনে থাকতে চেয়েছি। আমরা তাকে ক্ষমতাচ্যুত হিসেবেই দেখতে চেয়েছি। তার কারণে আমাদের অনেক ভুগতে হয়েছে। শাদে নারীর অধিকার বলে কিছুই নেই। আজ পর্যন্ত তিনি আমাদের জন্য কিছুই করেননি।
এ কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে আরেক ব্যক্তি বলেছেন, কেউই কারো মৃত্যু চায় না। এটা আমাদের জন্য ধাক্কা। কিন্তু আমরা পরিবর্তন চেয়েছিলেন। আর পরিবর্তন মানে এ নয়, তার ছেলে বা কোনো সামরিক কর্মকর্তা তা দখল করে নেবে।
সেনাবাহিনীর চার তারকা জেনারেল মাহামাত দেবি ইতনো ‘জেনারেল কাকা’ নামেও পরিচিত। কেউ কেউ তাকে অভিহিত করে থাকেন ‘কালো চশমা পরা জেনারেল’ হিসেবেও। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মাহামাত দেবির ক্ষমতা গ্রহণের বিষয়টি কোনোভাবেই সংবিধানসম্মত নয়। কেউ কেউ আবার এটিকে অভ্যুত্থানও বলছেন। কারণ শাদের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো কারণে প্রেসিডেন্ট পদ ফাঁকা হলে পার্লামেন্টের স্পিকার তথা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সভাপতির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কথা। সে হিসাব অনুযায়ী দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা হারুন কাবাদির। সেক্ষেত্রে মাহামাত দেবির ক্ষমতায় বসা কোনোভাবেই সংবিধানসম্মত নয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও বলছে, ইদ্রিস দেবির মৃত্যুর তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তার পরবর্তী উত্তরসূরি নিয়ে নানা ধরনের হিসাবনিকাশ শুরু হয়েছিল। কিন্তু মাহামাত দেবি কারো হিসাবেই ছিলেন না। এছাড়া তিনি যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে নিজের বিশ্বস্ত ১৪ জেনারেলকে সঙ্গে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালিন শাসন কাউন্সিল গঠন করে ফেলেছেন, সেটিও বেশ আশ্চর্যজনক।
মাহামাত দেবি ঘোষণা দিয়েছেন, ১৮ মাস পর তার তত্ত্বাবধানে শাদে ‘অবাধ ও গণতান্ত্রিক’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার এ ঘোষণা নিয়েও আপত্তি রয়েছে অনেকের। তাদের মতে, শাদের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হলে সর্বনিম্ন ৪৫ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচনের সময় ঘোষণা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু দ্রুত নির্বাচন ঘোষণা করতে গিয়ে মাহামাত সংবিধানের এ ধারাকেও লঙ্ঘন করেছেন।
ইদ্রিস দেবির মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণার পর পরই নিজ সীমান্ত বন্ধ করে দেয় শাদ। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয় সান্ধ্য আইন। তবে মাহামাত দেবি শাসনভার তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর সীমান্ত খুলে দেয়ার পাশাপাশি এ সান্ধ্য আইনও শিথিল করা হয়।
মাহামাত দেবির ক্ষমতা গ্রহণের বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছে শাদের বিরোধী দলগুলোও। ইদ্রিস দেবির ‘অপমৃত্যু’ হয়েছে বলে তারা স্পষ্টতই সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, মাহামাত দেবির ক্ষমতা দখলের বিষয়টিকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যুত্থান’ ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। শাদের ৩০টি রাজনৈতিক দল এরই মধ্যে এ বিষয়ে বক্তব্য রেখে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছে ইদ্রিস দেবির গোত্র জাঘাওয়াও। শাদসহ সাহেল অঞ্চলের (সাহারা মরুভূমি ও সুদানীয় তৃণভূমি অঞ্চলের মধ্যবর্তী অঞ্চল) দেশগুলোর রাজনীতিতে গোত্রকেন্দ্রিকতা অনেক বেশি। ইদ্রিস দেবির ৩০ বছরের শাসনামলে জাঘাওয়া গোত্রও অনেক ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছে। শাদের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যেও অনেকেই এ গোত্রের সদস্য। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গোত্রটিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিয়েছে। এমনকি ইদ্রিস দেবিও এ গোত্রের কয়েক সদস্যকে পদচ্যুত করেছিলেন। তবে মোটা দাগে গোত্রটি ইদ্রিস দেবির প্রতিই অনুগত।
আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, ইদ্রিস দেবির মৃত্যুর ঘটনায় জাঘাওয়া সম্প্রদায়ের সন্দেহের তীর মাহামাত দেবির দিকে। ইদ্রিস দেবির স্ত্রীদের অন্যতম এবং মাহামাত দেবির মা ছিলেন শারান গোরান গোত্রের সদস্য। এ সম্প্রদায়ের সঙ্গে জাঘাওয়াদের ব্যাপক রেষারেষি রয়েছে। অন্যদিকে মাহামাত দেবির স্ত্রী দাহাবায়ে আউমার সোউনিও শারান গোরান সম্প্রদায়ের মেয়ে। তার পিতা ছিলেন শাদের সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেনে হাব্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও তত্কালীন সরকারের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা। ১৯৯০ সালে হিসেনে হাব্রেকে উত্খাত করেই শাদের ক্ষমতা দখল করেছিলেন ইদ্রিস দেবি। এ বিষয়টিও মাহামাত দেবির প্রতি জাঘাওয়াদের সন্দেহকে উসকে দিয়েছে।
অন্যদিকে লিবিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধে একাংশের নেতা খালিফা হাফতারের সমর্থনপুষ্ট ফ্যাক্ট বিদ্রোহীরাও বলছে, শাদ কোনো রাজতান্ত্রিক দেশ নয়। এ কারণে মাহামাত দেবির ক্ষমতা দখল অবৈধ। তার ক্ষমতাচ্যুতি ও রাজধানী এন’জামেনা দখল করা পর্যন্ত ফ্যাক্ট বিদ্রোহীরা লড়াই চালিয়ে যাবে।
নানাভাবে সন্দেহের উদ্রেক করলেও সাবেক ফরাসি উপনিবেশ শাদে মাহামাত দেবির ক্ষমতা গ্রহণকে সমর্থন জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটি বলছে, শাদের পরিবর্তিত ও বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ধরে রাখার জন্য মাহামাত দেবির ক্ষমতা হাতে তুলে নেয়ার বিষয়টি জরুরি ছিল। রাজধানী এন’জামেনায় গতকালই ইদ্রিস দেবির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেন।
জাঘাওয়া সম্প্রদায়ের বিদায়াত গোত্রের দরিদ্র রাখাল পিতার সন্তান ইদ্রিস দেবির জন্ম ১৯৫২ সালে। লেখাপড়া শেষ করার পর যোগ দিয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এমনই এক সময়ে তিনি ফ্রান্সে যান উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য। ১৯৭৯ সালে তিনি যখন ফিরে আসেন তখন শাদ গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। এ সময় গৃহযুদ্ধে বিবদমান পক্ষগুলোর একাংশের নেতা হিসেনে হাব্রের সঙ্গে জোট বাঁধেন তিনি। এর কিছুদিন পরই ক্ষমতায় আসেন হিসেনে হাব্রে। ইদ্রিস দেবিকে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন তিনি।
ইদ্রিস দেবির সামরিক ক্যারিয়ার বেশ উজ্জ্বল। বুদ্ধিমান ও কৌশলী সমরবিদ হিসেবে বেশ পরিচিতি রয়েছে তার। ফরাসিরা তাকে অভিহিত করত ‘সাহেলের নেপোলিয়ন’ হিসেবে। ১৯৮৪ সালে শাদের লিবিয়াপন্থী বিদ্রোহীদের বেশ কৌশলের সঙ্গে দমন করেন তিনি। ১৯৮৬ সালে তাকে প্রধান সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন হিসেনে হাব্রে। পরের বছরই তথাকথিত ‘টয়োটা যুদ্ধে’ লিবীয় বাহিনীকে পরাজিত করেন তিনি। তার কৌশলের কারণে লিবিয়ার সেনাবাহিনী ব্যাপক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। সে সময় লিবিয়ার অভ্যন্তরে ঢুকে একটি বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালান তিনি। ১৯৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেনে হাব্রের সঙ্গে তার বিরোধের শুরু হয়। ওই সময় ইদ্রিস দেবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহামাত ইতনো ও সেনাপ্রধান হাসান জামোসের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার অভিযোগ আনেন হিসেনে হাব্রে। মাহামাত ইতনো ও হাসান জামোসকে আটক ও হত্যা করা হয়। ইদ্রিস দেবি প্রথমে দারফুর, পরে ত্রিপোলিতে পালিয়ে যান। সেখানে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিজে তাকে স্বাগত জানান।
দেবি, ইতনো ও জামোস—তিনজনেই ছিলেন জাঘাওয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। এ কারণে সম্প্রদায়টির ওপর নিপীড়ন চালানো শুরু করে হিসেনে হাব্রের সেনারা। ওই সময়কার কার্যক্রমের জন্য ২০১৬ সালে হিসেনে হাব্রেকে যুদ্ধাপরাধী ঘোষণা করে রায় দেয় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল।
লিবিয়ায় নির্বাসনে থাকাকালে ইদ্রিস দেবি মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে শাদে সিআইএর কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দেন। এ তথ্য এবং লিবীয় যুদ্ধবন্দিদের ছেড়ে দেয়ার অঙ্গীকারের বিনিময়ে গাদ্দাফি দেবিকে শাদের ক্ষমতা দখলের জন্য সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। ১৯৮৯ সালেই লিবিয়া থেকে সুদান যান ইদ্রিস দেবি। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিদ্রোহী দল প্যাট্রিওটিক স্যালভেশন মুভমেন্ট। লিবিয়া ও সুদানের সহায়তায় হিসেনে হাব্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন তিনি। ১৯৯০ সালের ২ ডিসেম্বর অনেকটা বিনা বাধায়ই এন’জামেনায় প্রবেশ করে হিসেনে হাব্রেকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইদ্রিস দেবির বাহিনী।
ক্ষমতায় বসার পর থেকেই বেশ কয়েকবার অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার মোকাবেলা করতে হয়েছে ইদ্রিস দেবিকেও। বিশেষ করে হিসেনে হাব্রের অনুগত বিদ্রোহীরা বেশ কয়েকবার তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করেছে। সেগুলো বেশ সাফল্যের সঙ্গেই মোকাবেলা করেছেন তিনি।
ইদ্রিস দেবি ক্ষমতায় থাকাকালেও গৃহযুদ্ধের নিগড় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি শাদ। ২০০৫ সালে দেশটিতে মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এ সময় দেবিকে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়। যদিও তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
এছাড়া জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামও এ সময় সাহেল অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক উৎপাত শুরু করে। বোকো হারামসহ আফ্রিকায় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে মোকাবেলার ক্ষেত্রে ইদ্রিস দেবিকে বরাবরই ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পেয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। বিশেষ করে ফ্রান্সের সঙ্গে সবসময়ই বিশেষ সখ্যতা বজায় রেখেছেন তিনি। মালি, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রসহ গোটা সাহেল অঞ্চলেই জঙ্গি মোকাবেলায় সেনা পাঠিয়েছে শাদ।
৩০ বছরের শাসনামলে টানা ছয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ইদ্রিস দেবি। তার এ দীর্ঘ শাসনামল নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে অনেক। এ সময় শাদে গোষ্ঠীভিত্তিক দলাদলি চূড়ান্ত পর্যায়ে ওঠে। এছাড়া দেশটি দুর্নীতিগ্রস্তও হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সরকারের সেনাবাহিনীর শক্তি ক্রমেই বাড়িয়ে চলার নীতি অর্থনীতিতেও ব্যাপক চাপ ফেলে। সরকারঘনিষ্ঠদের নানাভাবে পুরস্কৃত করার একটি রেওয়াজও তৈরি হয়। ফোর্বসের তালিকায় ২০০৬ সালে শাদকে আখ্যা দেয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে। এ দুর্নীতি দমনে ২০১২ সালে অপারেশন কোবরা নামে একটি অভিযান শুরু করেন ইদ্রিস দেবি। অভিযোগ রয়েছে, মূলত প্রতিপক্ষদের দমনের উদ্দেশেই এ অভিযান শুরু করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট দেবির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে ২০ লাখ ডলারের ঘুষের বিনিময়ে চীনা একটি প্রতিষ্ঠানকে শাদের জ্বালানি তেল উত্তোলনের সুযোগ দিয়েছেন তিনি।










