কয়েকদিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া) নির্বাচন নিয়ে বিভাজন, উত্তেজনা ও হট্টগোল দেখা গেছে ক্যাম্পাসে। বিষয়টি বর্তমান ছাত্ররাজনীতির চিত্রকেও অস্থির করে তুলেছে। বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাবেক শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্ব, নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা, উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও এবং প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে বিষয়টি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের সম্ভাবনাকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ৩৬ বছর পর রাকসু নির্বাচনের ঘোষণা তাদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে। সেখানে রুয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্থিরতা প্রশাসনের প্রস্তুতিকে নড়বড়ে করে তুলেছে। খসড়া ভোটার তালিকা ও আচরণবিধি প্রকাশ না হওয়া, নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা—সব মিলিয়ে সময়মতো রাকসু নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার নির্বাহী কমিটির নির্বাচন আপাতত স্থগিত করে রুয়া অ্যাডহক কমিটি। এমন ঘোষণায় সেদিন বিকালেই রাবি উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করেন সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। সেখানে যুক্ত হন বর্তমান শিক্ষার্থীরাও। উপাচার্যের বাসভবনের মূল ফটকে ঝুলিয়ে দেয়া হয় তালা। যদিও উপাচার্যের আশ্বাসে এক পর্যায়ে স্থগিত করা হয় কর্মসূচি।
এর আগে বিএনপিপন্থী অ্যালামনাসরা নির্বাচন বয়কটের পর থেকেই রুয়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্পষ্টতই দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এছাড়া জামায়াতপন্থী অ্যালামনাসরা সব কিছু উপেক্ষা করে নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দিচ্ছেন।
গত ২৯ এপ্রিল রাকসু নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল; কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া ১৩ এপ্রিল চূড়ান্ত বিধিমালা ও নির্বাচনী আচরণবিধি প্রকাশের তারিখ থাকলেও এখনো তা প্রকাশ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বৈঠকে বসতে পারেনি। এমন অবস্থায় জুনের তৃতীয় অথবা চতুর্থ সপ্তাহে রাকসু নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়ের কথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হলেও আদৌ তা বাস্তবায়ন করা যাবে কিনা—সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
রুয়া নিয়ে ক্যাম্পাসে চলা উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জুনে রাকসু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাকসু আমাদের অধিকার। রুয়া সাবেক শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক একটি প্লাটফর্ম; তবুও একটি গোষ্ঠী কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে আজীবন সদস্য করে, বহিরাগত নেতাদের নিয়ে পেশিশক্তির মহড়া দেখিয়েছে।’
ক্যাম্পাসের বর্তমান অবস্থা সাপেক্ষে জুনে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে রাকসু ইসি প্রফেসর মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, ‘কমিশন গঠিত হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। এরই মধ্যে রুয়া নির্বাচন বেশকিছু বিষয়ে আমরা ক্যাম্পাসে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি লক্ষ্য করছি; মনে হচ্ছে স্থিতিশীলতা নানাভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আগে বসুক, এর পরে বলা যাবে ঠিক কবে নাগাদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে।’
অবশ্য রুয়া ও রাকসু নির্বাচন নিয়ে একাধিকবার নিজের শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। তিনি বলেন, ‘রুয়ার আজীবন সদস্য এখন প্রায় আট হাজার। এটি এখন কোনো পকেট গ্রুপ নয়। আমরা অবিশ্বাস্য সাড়া পেয়েছি। আমি মনে করি এটা আমার জন্য একটা আমানত। যেকোনো মূল্যে আমি এটা রক্ষা করতে চাই। নির্বাচন আপাতত স্থগিত হলেও নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হবে। সেই অ্যাডহক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। নির্বাচন কমিশনাররা রুয়া নির্বাহী কমিটির নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা করবেন।’
রাকসু নির্বাচন আয়োজন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজন করাটা আমার জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং; তবুও আমি এটা করবই। অল্প সময়ের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি প্রকাশিত হবে। নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই।’










