বিসিক শিল্পনগরীর বর্জ্যে মৌলভীবাজারে খাঞ্জার হাওরের শত বিঘা জমিতে ফসল ফলছে না। এ-সংক্রান্ত সংবাদ বণিক বার্তায় প্রকাশের পর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে আইনি নোটিস প্রদান করেছে পরিবেশবাদী সংগঠনটি।

বেলা সিলেটের সমন্বয়ক শাহ সাহেদা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১০ জুন বণিক বার্তায় ‘কারখানার বর্জ্যে শতাধিক বিঘা জমিতে ফসল ফলছে না’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক-সংলগ্ন গুমরা মৌজায় গড়ে ওঠা বিসিক শিল্পনগরীতে বেলার প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে সংবাদের সত্যতা পাওয়া যায়।

পরিদর্শনে প্রতীয়মান হয়, কারখানার বর্জ্য ও রাসায়নিক মিশ্রিত পানি ড্রেন দিয়ে খাঞ্জার হাওরে ও বিসিক-সংলগ্ন সব কৃষিজমিতে প্রবেশ করে ফসল উৎপাদন ব্যাহত করছে। শিল্পনগরী সংলগ্ন খাঞ্জার হাওরের জমিগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে। দূষিত বর্জ্যের কারণে শুধু ফসল হচ্ছে না তা নয়, জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে এবং হাওরে দেখা দিয়েছে মাছের সংকট। অধিকন্তু এ দূষিত পানি ব্যবহারে এলাকাবাসী নানা রকম চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গবাদিপশু এ পানি পান করে অসুস্থ হচ্ছে মর্মেও এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বিসিক-সংলগ্ন এলাকায়, যা এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বেলা মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক-সংলগ্ন গুমরা মৌজায় গড়ে ওঠা বিসিক শিল্পনগরীতে বিদ্যমান সব দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পূর্ণ তালিকা প্রস্তুতপূর্বক যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে তাদের ছাড়পত্র বাতিলের ও যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই সেসব প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিসিক শিল্পনগরীতে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ইটিপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) স্থাপন ও কার্যকর রাখতে কঠোর ও নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বিসিক শিল্পনগরীতে বিদ্যমান যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণের কারণে স্থানীয় খাঞ্জার হাওর, গুমরা মৌজা ও মৌজাসংলগ্ন ফসলের ক্ষতি সাধিত হয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিতকরণ, ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও দোষীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানানো হয়।

বেলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস হাসানুল বান্নার পাঠানো নোটিসে সাতদিনের মধ্যে নেয়া পদক্ষেপ জানানোর অনুরোধ করা হয়।

নোটিসপ্রাপ্তরা হলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার সহকারী পরিচালক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বিসিক মৌলভীবাজারের উপব্যবস্থাপক।