নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দাপাইদ্রাকপুর এলাকার নিজ বাসা থেকে জামাল হোসেন (৫৪) নামে এক সৌদি প্রবাসীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে দাফনের আগে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্ত্রী শারমীন আক্তার (৪৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (২০) ও ছেলেকে তানভির হাসান ডালিমকে (১৮) জিজ্ঞাসাবাদের আটক করেছে। নিহত জামাল হোসেন ফতুল্লার দাপাইদ্রাকপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সদর উপজেলার ফতুল্লার দাপাইদ্রাকপুর এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন দীর্ঘ ২৫ বছর সৌদি আরব ছিলেন। দেড় বছর আগে সে দেশে ফিরে এসে আর সৌদি ফিরে যাননি। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার নিজ বাড়ির বাথরুমে জামাল হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকে। এ সময় তার পরিবার ঘটনাটি পুলিশকে জানায়নি। এমনকি তাকে হাসপাতালেও নিয়ে যায়নি।
বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ছাদে নিয়ে গোসল করিয়ে গোপনে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার সকালে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মৃত জামাল মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার জানান, বাবা রাত ১১টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আড়াইটার দিকে তার ঘুম ভেঙে গেলে ডাইনিং রুমে আলো জ্বালানো দেখতে পেয়ে তা নেভানোর জন্য যান। এ সময় দেখতে পান বাবার (জামাল হাসেনের) মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে মা ও ছোট ভাইকে ডেকে তুলেন। পরবর্তীতে তাদের বাড়ির ভাড়াটিয়াদের ডেকে তোলা হয়। সবাই এসে মরদেহ বাথরুম থেকে বের করে নিয়ে আসেন। রাতের বেলায় অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়া এবং আশেপাশের লোকজন তিনি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করায় হাসপাতালে নেয়া হয়নি।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতের মাথায় আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।










