২০২৯ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হবে। গতকাল চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, ‘দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির সক্ষমতা বাড়াতে এবং জ্বালানিনিরাপত্তা শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ ইউনিট চালু হলে দেশে জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।’
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দেশে এপ্রিল ও মে মাসের জন্য পূর্ণ জ্বালানি মজুদ আছে। পাশাপাশি জুনের চাহিদা মেটাতে জ্বালানি মজুদ নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।
এ সময় তিনি বলেন, ‘নতুন ইউনিট চালু হলে জ্বালানি তেলের উৎস বহুমুখীকরণ সহজ হবে। মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করে তা দেশেই পরিশোধনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা বা আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’
১৯৬৮ সালে যাত্রা শুরু করা ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ তেলের বড় অংশ আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।
অনিন্দ্য ইসলাম জানান, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানির মজুদ পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। বিশেষ করে জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে প্রায় ছয় সপ্তাহের সমপরিমাণ মজুদ রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের চাহিদা মেটাতে সরকারের সক্ষমতা রয়েছে। এখন জুনের সূচি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
প্রত্যেকে দায়িত্বশীল আচরণ করলে গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই বোঝেন যে এটা অস্বাভাবিক চাহিদা! অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করা আসলে একটি অসম্ভব ব্যাপার। প্রতিনিয়ত আমরা দেখছি হাজার হাজার লিটার তেল অবৈধ মজুদদারদের কাছ থেকে উদ্ধার হচ্ছে।’
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ফুয়েল পাসের পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করেছি, আমাদের আরো কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আমি ভীষণভাবে আশাবাদী, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই লম্বা লাইন (জ্বালানির জন্য) সংক্ষিপ্ত হবে।’
লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের পিক আওয়ার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় আমাদের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। এ চাহিদার বিপরীতে আমাদের উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৮৪৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ লোডশেডিং ছিল ৪৮১ মেগাওয়াট। এ লোডশেডিং আমাদের বিতরণ ব্যাবস্থায় ম্যানেজ করতে হয়েছে। চট্টগ্রামে লোডশেডিং ছিল মাত্র ৩৫ মেগাওয়াট।’
ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী ও ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত প্রমুখ।










