যেকোনো দুর্যোগে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা ও দীর্ঘদিন মজুদ রাখতে নির্মাণ করা হয় আধুনিক সাইলো বা খাদ্য সংরক্ষণাগার। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২১ সালের ২২ জুন স্থাপনাটির কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। নগরীর ৩০ গোডাউন এলাকায় ৩৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাইলোতে তিন বছরের জন্য ৪৮ হাজার টন চাল সংরক্ষণ করা যাবে। যেকোনো দুর্যোগে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় এটি সহায়ক হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অর্থ ও জনবল সংকটে নির্মাণের প্রায় এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংরক্ষণাগার পরিচালনার জন্য যে জনবল প্রয়োজন তা নেই। ৪৩ জন জনবলের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ১৯ জন। নিরাপত্তার জন্য ১৫ জন আনসার দেয়ার কথা থাকলেও একজনও নেই সেখানে। যারা কর্মরত আছেন তাদের বেতনও বকেয়া রয়েছে পাঁচ মাস ধরে। বিদ্যুৎ বিলও বকেয়া পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে খাদ্য সংরক্ষণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাইলোর প্রধান সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্টিল সাইলোতে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৩০ লাখ টাকা শুধু বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। ট্রাকে চাল ওঠানাে-নামানোর জন্য শ্রমিকদের বিল বকেয়া পড়েছে ৪ লাখ টাকা। বকেয়া পড়েছে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় খাতা-কলম থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিসপত্রের বিলও। আর্থিক বরাদ্দ না পেলে সংরক্ষণাগারটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

বরিশাল খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ৩৬২ কোটি ৪৩ লাখ ৪১২ হাজার টাকা ব্যয়ে চাল সংরক্ষণের জন্য বিশ্বমানের সাইলো নির্মাণ করা হয়। নগরীর ৩০ গোডাউন এলাকায় ২১ বিঘা জমিতে খাদ্য সংরক্ষণাগারটির নির্মাণকাজ করেছে জয়েন্ট ভেঞ্চার অব কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড বাংলাদেশ এবং দি জিএসআই গ্রুপ এলএলসি ইউএসএ (সিআইএল-জিএসআই জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

তবে কীর্তনখোলা নদীর তীরে বিশালাকার এ খাদ্য সংরক্ষণাগারে নেই নিরাপত্তা কর্মীও। সাইলোর নিরাপত্তা সুপারভাইজার নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের এখানে কোনো নিরাপত্তা নেই। জানুয়ারিতে এক প্লাটুন আনসার চেয়েছিলাম, দেয়া হয়নি। পরে ১৫ জন চেয়েছি তাও দেয়া হয়নি। আমাদের পুরো জেটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। এখানে লোকসংখ্যা এতই কম যে দিনের বেলায় অফিসের কাজ করে আমাদেরই নৈশপ্রহরীর কাজ করতে হচ্ছে।’

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় স্থানীয় পদ্ধতিতে প্রায় ৯০ হাজার টন খাদ্য মজুদের ব্যবস্থা রয়েছে। খাদ্য মজুদের ক্ষেত্রে সাইলো হবে বাড়তি শক্তি। খরা, ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের পর খেতে ফসল ওঠা পর্যন্ত সাইলোর মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়।

এ ব্যাপারে প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. আবদুর রহিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ করতে প্রথমে জমিসংক্রান্ত জটিলতা এবং পরে জেটি নির্মাণের সময় বর্ষা মৌসুমে নদীর জোয়ার-ভাটা বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এছাড়া এলসি খোলা নিয়ে জটিলতায় মালামাল বিদেশ থেকে আনতে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় কাজ শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এখানে ৫০ কেজি থেকে শুরু করে দুই কেজি, এক কেজি চাল অটোমেটিক পদ্ধতিতে প্যাক করা যাবে। বরিশালে খাদ্য মজুদের বড় সংরক্ষণাগার হবে এটি। যেকোনো দুর্যোগের পর ফসল ওঠা পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তায় সহায়ক হবে। বিশাল এ প্রকল্প পরিচালন ব্যয় হবে কম এবং খাদ্যমান নিশ্চিত হবে সম্পূর্ণটা। অত্যাধুনিকভাবে মান নিয়ন্ত্রণ করে এখানে খাদ্য সংরক্ষণ হবে।’