ঝালকাঠি জেলার প্রথম ও দেশের দ্বিতীয় পৌরসভা নলছিটি। ১৯৬৫ সালে পৌরসভার মর্যাদা পায় এটি। ১৯৯৯ সালে ‘গ’ থেকে ‘খ’ শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। ২৪ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বাস করলেও সড়কগুলো বেহাল। দেশের অন্যান্য পৌরসভার সড়ক যোগাযোগে যে উন্নয়ন হয়েছে সেখান থেকে অনেক পিছিয়ে নলছিটি পৌর এলাকা।
পৌরসভার কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বেশির ভাগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। এতে বর্ষায় দুর্ভোগ বেড়েছে দ্বিগুণ। পৌরবাসীর নাজেহাল অবস্থায় বাড়ছে ক্ষোভ। খানাখন্দে ভরা সড়কে বৃষ্টির পানি জমে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এক প্রকার বাধ্য হয়ে চলাচল করছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, নলছিটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ সড়ক, সবুজবাগ সড়ক, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খোজাখালী থেকে পুলেরহাট সড়ক, পিয়নবাড়ী থেকে সাবেক কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাঠেরপুল থেকে অনুরাগ পর্যন্ত সড়কগুলোয় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও মাটির গর্তে পানি জমে আছে। এসব সড়কে গত ৫-১০ বছরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা তাইফুর রহমান তূর্য।
তিনি আরো জানান, বর্ষায় যেমন পানি জমে কাদাপানিতে একাকার হয়, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে একাকার হয়। অনেক সময় দেখা যায় জরুরি মুহূর্তে কোনো যানবাহন এ সড়কে যেতে চায় না। আবার প্রসূতি মায়েদের জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেয়ার প্রয়োজন হলে অ্যাম্বুলেন্স আসতে অনেক সময় ব্যয় হয়। এছাড়া খানাখন্দের কারণে প্রসূতিসহ অন্য রোগীদের কষ্ট ভোগ করতে হয়।
নলছিটি পৌর শহরের বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে একটু বৃষ্টিতে পানি জমে যায়। অথচ এ সড়ক দিয়েই নলছিটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করে। পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ সড়কের আশপাশেই রয়েছে বেশির ভাগ দলিল লেখকের অফিস কক্ষ। যেখানে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া জমিসংক্রান্ত কাজে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ আসে।
নলছিটি দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন লিটন বলেন, ‘দলিল লেখক সমিতির বেশির ভাগ সদস্যের অফিস কক্ষ এ সড়কের দুই পাশে অবস্থিত। যে কারণে অনেক মানুষকে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমানে পানি জমে সড়ক দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভবই বলা যায়।’
ইজিবাইকচালক জাকির হোসেন জানান, এসব সড়কে গেলে ইজিবাইকের ক্ষতি হয়। গর্তের কারণে ইজিবাইক দুলতে থাকে। এছাড়া নড়াচড়ার কারণে ব্যাটারি বেশি দিন টেকসই হয় না। তাই অনেক সময় বেশি ভাড়া দিলেও কেউ যেতে চায় না। কিছুদিন আগে একটা ইজিবাইক উল্টে একজন পথচারী ও যাত্রী আহত হন। ইজিবাইকেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। যেখানে সাধারণ পথচারীরাই চলতে অসুবিধা বোধ করে সেখানে যানবাহন চলাচল একটু বেশিই ঝুঁকিপূর্ণ। যত দ্রুত সম্ভব সড়কগুলো সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক এটাই তাদের দাবি।
এ ব্যাপারে নলছিটি পৌরসভার মেয়র আ. ওয়াহেদ খান বলেন, ‘শিগগিরই উপকূলীয় শহর প্রকল্পের একটি প্রতিনিধি দল পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করবে। আশা করি, আমরা সড়কগুলো সংস্কারে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাব। বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই যেসব সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন সেগুলোর কাজ করা হবে।’










