গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এ কথা জানান। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘‌চুক্তিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত একটি জাতীয় কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ওই কমিটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইন বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ছিলেন। তারা চুক্তি পরীক্ষা করে দেখেছেন যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার চুক্তিটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক মূল্যে স্বাক্ষর করেছে।’

তিনি আরো জানান, এখন সরকার চুক্তি সংশোধনের জন্য দুটি বিকল্প বিবেচনা করছে। বিকল্প দুটি হলো— আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান অথবা আদানি পাওয়ারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি সংশোধন।

দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই

দেশে বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী। তবে গ্রীষ্মকালে জ্বালানি সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। গতকাল জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময় প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণকাজ এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে তখন চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব হয় না।

লোডশেডিং কমাতে সরকারের নেয়া উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতাহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সঞ্চালন ও বিতরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে নেয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি ভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহারে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা এবং ব্যবহার শেষে সুইচ বন্ধ করা। এছাড়া পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে পানির পাম্প, ওভেন, হিটার, ইস্ত্রি, ওয়াশিং মেশিন ও ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। শপিংমলে অতিরিক্ত আলো ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ভিজিল্যান্স টিম কাজ করছে।

মন্ত্রী আরো জানান, অটোচার্জিং স্টেশনগুলোকে পিক আওয়ারে চার্জিং বন্ধ রাখতে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন তিনি।