তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সহযাত্রী হতে মার্কিন কোম্পানিগুলো আগ্রহী। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
গতকাল শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৩৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৩৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কাউন্সিলের উপদেষ্টা নিশা বিসওয়াল। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসেরসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বৈঠকে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে গিয়ে মার্কিন কোম্পানিগুলো যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বাণিজ্যনীতি, রফতানিনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও ই-কমার্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে বাংলাদেশ কোন কোন খাতে গুরুত্ব দেবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।’
তিনি বলেন, ‘পাট, চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত খাতে রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসব খাতকে বহু বিলিয়ন ডলারের রফতানি খাতে পরিণত করার লক্ষ্যে নেয়া উদ্যোগগুলো আগামী মাসে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে শিগগিরই আলোচনা শুরু হবে।’
ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং ব্যাংক খাতে প্রয়োজনীয় উদারীকরণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর ফলে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ফ্রিল্যান্সারদের ডিজিটাল সেবা ও পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের সুযোগ আরো সহজ হবে।’
ট্রেড লাইসেন্সের জটিলতা প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি অনলাইনে জমা দিয়ে সেখান থেকেই ট্রেড লাইসেন্স ডাউনলোড করা যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে সময় নষ্ট করতে হবে না।’
তিনি বলেন, ‘দেশের সব এলাকার ট্রেড লাইসেন্স একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ নিয়ে কাজ চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে।’
ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে বড় কোনো বাধা রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি মূলত বাধার চেয়ে প্রক্রিয়া আরো সহজ করার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিভিন্ন লাইসেন্স, পারমিট ও ছাড়পত্রের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সমন্বয়হীনতা ও পুনরাবৃত্তি চিহ্নিত করে তা দূর করা হবে। “ইজ অব ডুয়িং বিজনেস”-এ বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে ছিল। ব্যবসা সহজীকরণের জন্য এরই মধ্যে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যত বেশি সম্ভব অনুমোদন ও সেবা ডিজিটাল করা হবে, যাতে ব্যবসায়ীদের শারীরিকভাবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যেতে না হয়। ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরো সহজ ও কার্যকর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।’










