নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রবিনটেক্স বাংলাদেশ লিমিটেডে নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (০৯ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আউখাবো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলামের দাবি, ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিকেরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে গেলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান শ্রমিকেরা। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের আগে মার্চ মাসের বেতন ও বোনাসের আংশিক পরিশোধ করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে মালিকপক্ষ। এ সময় ২৬জন শ্রমিককে বিনা নোটিশে ছাঁটাইও করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার কারখানা খুলে দেয়া হলে শ্রমিকেরা ছাঁটাই করা শ্রমিকদের কাজে ফেরত নেয়াসহ বেশ কিছু দাবি জানান। মালিকপক্ষ দাবি মেনে না নিলে শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। ছাঁটাই করা শ্রমিকদের কাজে ফেরত না নেওয়ায় আজ সকালে আবার কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। দুপুরে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে কারখানার বাইরে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাঁদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

শামীম ও সাবিত নামে কারখানার দুই শ্রমিক বলেন, মালিকপক্ষ বিনা নোটিশে তাদের ২৬ জন শ্রমিকে ছাঁটাই করেছে। গত মার্চ মাসের বেতন-বোনাসও তাদের আংশিক পরিশোধ করা হয়েছে। ঈদের পর কাজে যোগ দিলে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ আরো বেশ কয়েকজ শ্রমিকের আইডকার্ড জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু শ্রমিকরা আইডি কার্ড জমা না দিয়ে কারখানার মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকের কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তাদের ছাটাই করার চেষ্টা অব্যহত রাখে।

জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করলে শ্রমিকেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য ও সেনাবাহিনীর সদস্য আহত হন। পরে লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।