লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার তিনবিঘা করিডোর হয়ে দহগ্রাম সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় কিশোরসহ ১২ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে ৬ কিশোরকে পাটগ্রাম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রায়হান আলীর উপস্থিতিতে অভিভাবকদের মুচলেকায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় এক দালালসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে পাটগ্রাম থানায় মামলা করেছে বিজিবি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাদের আটক করে রংপুর-৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পানবাড়ী কোম্পানি সদরের একটি টহল দল। রাতেই তাদের পাটগ্রাম থানায় সোপর্দ করা হয়। আজ সকালে বিজিবির মামলায় পাটগ্রাম থানা পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিকালে লালমনিরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পাটগ্রাম থানার ডিউটি অফিসার (এএসআই) দিপ্তী রানী রায় জানান, আটক ১২ জনের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ঘোড়াডাঙী এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে জাফর হোসেন (২২), সোনারদী মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ বিসু (২০), আবুল কালামের ছেলে আসাদুজ্জামান (২১) এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামের দালাল চক্রের সদস্য মহব্বত আলীর ছেলে শাকিল ইসলাম(২০), একই জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের সোনারহাট এলাকার কার্তিক রায়ের ছেলে তুলারাম বর্মণ (২৫) ও তার স্ত্রী ভারতীয় নাগরিক অমৃতা রানী রায়কে (১৯) বিজিবির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার মেদনী সাগর এলাকার জামিরুল ইসলামের ছেলে রাফিম রানা (১৬), একই এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে আকাশ হোসেন (১৫), আব্দুল মালেকের ছেলে রিপন মিয়া (১৭), রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল রানা (১৭), তোয়াব আলীর ছেলে মোহাম্মদ সোহেল (১৭) ও তৈবুর আলীর ছেলে মাসুদ রানা (১৭) অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পানবাড়ী বিজিবি, পাটগ্রাম থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, দহগ্রামের একটি দালাল চক্র ভারতের ভালো কাজ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত পথে তাদের পাচারের চেষ্টা করছিল।
পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত বলেন, বিজিবির মামলায় আটককৃত ব্যক্তিদের গ্রেফতার দেখিয়ে আজ লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।










