মাদারীপুরে
মোটরসাইকেলচালক শাহাদাত ঘরামীকে (২০) হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা
করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ
আদালতের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা
করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার রামনগর এলাকার সুলতান শরীফের ছেলে সেন্টু শরীফ (৩৫) ও কমলাপুর এলাকার মান্নান ফকিরের ছেলে মিরাজ ফকির (৩০) এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকার মৃত জিন্নাত শেখের ছেলে ফজেল শেখ (৫০)।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বড় দুলালী এলাকার মোকসেদ ঘরামীর ছেলে শাহাদাত ঘরামী ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে গৌরনদী উপজেলার বার্থী যাওয়ার কথা বলে শাহাদাত ঘরামীকে ভাড়ায় নেন মিরাজ ও সেন্টু। পরে তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে সেদিন রাতে কোনো এক সময় শাহাদাতকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ তাদের আত্মীয় ফজেল শেখের মাধ্যমে মাদারীপুরের মস্তফাপুর ইউনিয়নের সিকি-নওহাটা এলাকার একটি জমিতে ফেলে চলে যান। এ ঘটনার দুদিন পর নিহতের বাবা মোকসেদ ঘরামী বাদী হয়ে মিরাজ ফকির ও সেন্টু শরীফসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে মাদারীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে সদর থানার পুলিশের এসআই শ্যামলেন্দু ঘোষ তদন্তের পর ২০১৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১০ জনের সাক্ষ্য নেন। দীর্ঘ ১০ বছর যুক্তিতর্ক শেষে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় রায় ঘোষণার সময় কেউ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান সিংহ।










