আমি লক্ষ করেছি তাদের মধ্যে এ সরকারের প্রতি বিপুল আস্থা ও আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে তাদের প্রবল ইচ্ছা রয়েছে।’

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘‌আমরা রোববার আমাদের দেশে বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছি। আমরা তাদের কাছে আমাদের সরকারের বৈদেশিক নীতির রূপরেখা বলেছি। আমরা বলেছি যে আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছে বাংলাদেশ ফার্স্ট বা সবার আগে বাংলাদেশ। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, পরস্পরের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধা ও জাতীয় মর্যাদা—এসব মূল নীতির ওপর আমাদের কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত থাকবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা সমান অংশীদার হিসেবে প্রত্যেকটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে সুবিধাজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। আমি এ পর্যন্ত সৌদি আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউর বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমি লক্ষ্য করেছি তাদের মধ্যে এ সরকারের প্রতি বিপুল আস্থা এবং আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার তাদের যে একটা প্রবল ইচ্ছা, সেটা আমরা দেখেছি। আশা করি আমাদের অঞ্চলে এবং বিশ্বের অন্যান্য স্থানে আমাদের যেসব বন্ধুরাষ্ট্র আছে তাদের সবার সঙ্গে আমরা অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: এদিকে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি লেখেন, ‘আমাদের দুই দেশকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত।’

গতকাল যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপির কার্যালয়ে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় আলোচনায় স্থান পায় দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুরের মার্চের শুরুর দিকে আসন্ন বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি।

বিবৃতি অনুযায়ী, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠককালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।

ইইউ-বাংলাদেশ সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্তের কাছাকাছি—মাইকেল মিলার: এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ব্রিফিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ‘একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আমাদের অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি। আমরা আশা করি নিকটতম সম্ভাব্য সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে এটি যৌথভাবে স্বাক্ষর করার অবস্থানে থাকব। আমরা পূর্ববর্তী প্রশাসনের অধীনে শুরু হওয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাক্ষাতে উভয় পক্ষ একটি বিস্তৃত বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনার বিষয়ে মতবিনিময় করে।