কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পাঁচপীর থেকে চিলমারীর রমনা রেলস্টেশনের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। এক বছর আগে রেলপথটি সংস্কার শুরু হয়েছিল। তবে সেটি এখন বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে পাথরশূন্য হয়ে পড়েছে রেললাইন। কাঠের স্লিপারগুলোও ডেবে গেছে। কোথাও কোথাও লাইনের মাঝে ঘাস জন্মেছে। দুই লাইনের সংযোগস্থলে চারটির বদলে দুটি করে নাট-বোল্ট রয়েছে। এর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন।
১৭ আগস্ট রেলপথে দুটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। উলিপুর উপজেলার রসুলপুর এলাকায় রমনা লোকাল ট্রেন লাইনচ্যুত হলে লালমনিরহাট থেকে উদ্ধারে আসে রিলিফ ট্রেন। উলিপুরের পাঁচপীর স্টেশনের কাছে সেটিও লাইনচ্যুত হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলপথ দিয়ে কচ্ছপগতিতে ট্রেন চলাচল করে। দেশের সবচেয়ে ধীরগতির রেলপথ এটি। পাঁচপীর রেলস্টেশন থেকে চিলমারীর রমনা স্টেশন পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার রেলপথে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলে রমনা লোকাল ট্রেন। এ দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে ১ ঘণ্টারও বেশি।
রেলসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাঁচপীর স্টেশন থেকে রমনা স্টেশন পর্যন্ত রেলপথে পাথর নেই। পুরো রেলপথটি ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকি বিবেচনায় রেলপথে ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই গতি নিয়েও ট্রেন চলতে পারে না। ট্রেন চলার সময় দুইদিকে দোলে। কখনো কখনো ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে যায়। ধীরগতিতে চলার কারণে পাঁচপীর থেকে চিলমারীর রমনা যেতে রেলপথের কোনো স্থানে দাঁড়িয়ে থাকলেই ট্রেনে ওঠা সম্ভব। বাস্তবে ঘটছেও তাই। রেলপথের যেকোনো স্থান থেকে শিশু-কিশোররা ইচ্ছামতো চলন্ত ট্রেনে ওঠে, আবার নেমে যায়। কেউ কেউ ট্রেনের এমন গতিকে উপহাস করতে চলন্ত ট্রেনের এক বগি থেকে নেমে আরেক বগিতে উঠছে।
ট্রেনটির পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘লাইনের সমস্যা। স্লিপার নেই, পাথর নেই। আমাদের কুড়িগ্রাম থেকে রমনা পর্যন্ত ১৫-২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালাতে বলা হয়েছে। এজন্য সময়ও বেশি লাগে।’
লালমনিরহাট রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচপীর স্টেশন থেকে রমনা স্টেশন পর্যন্ত রেলপথ সংস্কারের জন্য এক বছরের বেশি সময় আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শুধু মাটি ভরাট আর কয়েকটি রেলসেতু মেরামত করা হলেও রেললাইন, স্লিপার পরিবর্তন এবং পাথর ফেলার কাজ হয়নি। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। এজন্য রেলপথটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
তিস্তা থেকে চিলমারী পর্যন্ত রেলপথের দায়িত্বে থাকা লালমনিরহাট রেল বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিউআই) বজলুর রহমান বলেন, ‘এক বছর আগে প্রায় ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে রেলপথ সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল। রেলপথটির ওয়ার্ক পোরশনের (মাটি ভরাট ও ব্রিজের) কাজ হলেও ওয়ে পোরশনের (লাইন, পাথর ও স্লিপার) কাজ হয়নি। স্লিপার সংকটের কারণে বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। রেলপথটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।’
সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রেলপথটি আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ। সংস্কারকাজ আগামী অক্টোবর কিংবা নভেম্বরের মধ্যে শুরু হতে পারে।’










