টানা ছয়দিন পর পুরোপুরি নিভেছে সুন্দরবনের আগুন। গতকাল বেলা ১২টায় অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। আগুনে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের দুই এলাকায় ৫.৫ একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজী টহল ফাঁড়ির টেপারবিল এলাকার দেড় একর এবং তেইশের ছিলা শাপলার বিল এলকার ৪ দশমিক শূন্য ৫ একর বনভূমি রয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম এসব তথ্য জানিয়েছেন। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টেপারবিল ও তেইশের ছিলা শাপলারবিল এলাকার বেশির ভাগ গাছ শুকিয়ে গেছে। বেশকিছু সুন্দরী গাছের পুড়ে যাওয়া গোড়ার অস্তিত্ব দেখা গেছে তেইশের ছিলা শাপলারবিলে। ধারণা করা হচ্ছে আগুনের তাপে শুকিয়ে যাওয়া এসব গাছ দ্রুতই মারা যাবে।
ডিএফও কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে এখন কোনো আগুন নেই। আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ হয়ে গেছে। তার পরও অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য জোয়ারের সময় পানি ছিটানো হচ্ছে। আগামীকালও পর্যবেক্ষণ করা হবে। তারপর ফায়ার আউট ঘোষণা করা হবে। পরপর দুটি এলাকায় আগুন লাগার কারণে আমাদের কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। আমরা দুটি স্থান ড্রোন ও জিপিএসের মাধ্যমে মনিটরিং করেছি। আপাতত সাড়ে পাঁচ একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জিপিএসের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়েছে। এছাড়া দুটি ঘটনায় আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা সাত কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন। তখন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানা যাবে।’
এর আগে শনিবার সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজী বন টহল ফাঁড়ির টেপারবিলে আগুন লাগে। রাতভর চেষ্টায় রোববার সকালে আগুন নেভায় বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। সুপ্ত আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী খুঁজতে বন বিভাগ ড্রোন ব্যবহার করে। তখন কলমতেজী এলাকা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে তেইশের ছিলা শাপলারবিলে আগুনের অস্তিত দেখতে পায় বন বিভাগ। সেই আগুনে সুন্দরবন পুড়েছে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে। মঙ্গলবার বিকালে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য বুধবার ও বৃহস্পতিবার ওই এলাকা পর্যবেক্ষণে রাখে বন বিভাগ। এ সময়ে পানিও ছিটানো হয় বনের মধ্যে।










