বরগুনার তালতলী উপজেলার সওদাগরপাড়া গ্রামে একসময় শুধু বর্ষা মৌসুমে ধান উৎপাদন হতো। লবণাক্ততার কারণে বছরের অন্যান্য মৌসুমে ফসল হতো না এখানকার মাটিতে। এ সময়টা দিনমজুরের কাজ করতেন কৃষকরা। তবে লবণ পানির প্রবেশপথ বন্ধ হওয়ায় এখন সেখানে বছরজুড়ে সবজি উৎপাদন হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, শুধু বর্ষা মৌসুমে ধানচাষ করে তেমন লাভ হতো না। ১০ বছর আগে শাহাদাত মাতুব্বর নামে এক কৃষক সবজি চাষে সফলতা পান। তার সাফল্য দেখে ধীরে ধীরে গ্রামের অন্যান্য কৃষক পরিবারও সবজি চাষের পথে হাঁটে। এখন বছরজুড়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন তারা। এ গ্রামে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়, যা থেকে বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন হয়।

সরজমিনে দেখা গেছে, লবণাক্ততা কাটিয়ে সবুজে ভরে উঠেছে মাঠ। শিম, মরিচ, করলা, মুলা, বেগুন, কুমড়া, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, আলুসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে এখানে।

সওদাগরপাড়া গ্রামের কৃষক মিজান পঞ্চায়েত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এক সময় গ্রামের নারীরা কাজ করতেন না। তখন শুধু ধান চাষ হতো। সে সময় বেশির ভাগ পরিবারে ছিল অভাব-অনটন। এখন এ গ্রামে বছরজুড়ে সবজি চাষের কারণে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে কাজ করেন। এতে অভাব দূর হয়েছে চাষীদের।’

কৃষক হেলাল মিয়া বলেন, ‘আগে জমিতে ধান চাষ করতাম। তবে লবণাক্ততার কারণে তেমন ফলন হতো না। সাগরের পানি প্রবেশের পথ বন্ধ হওয়ায় ধীরে ধীরে লবণাক্ততা কেটে গেছে। এখন সবজি চাষ করছি। চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে শিম ও মরিচ চাষ করেছি। এতে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিক্রি করেছি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।’

সবজি চাষী জুয়েল মিয়া বলেন, ‘চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছি। এতে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছি। তবে সার, কীটনাশক ও বীজের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। এতে করে চাষের খরচ বেড়ে গেছে। তবে বাজারদর ও ফলন ভালো হওয়ায় খরচ বাদ দিয়ে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।’

সওদাগরপাড়া আদর্শ কৃষি সমিতির সভাপতি মো. শাহাদাত মাতুব্বর বলেন, ‘এ গ্রাম থেকে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ মণ সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর কারণে পাইকাররা খেত থেকে সবজি সংগ্রহ করে সরবরাহ করেন বড় বড় বাজারে। গত বছর এ গ্রাম থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার সবজি বিক্রি হয়েছে। এ বছর বাজারদর ও ফলন ভালো হওয়ায় ৬ কোটি টাকার বেশি বিক্রি হবে।’

এ ব্যাপারে তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রাসেল বলেন, ‘চলতি মৌসুমে তালতলীতে ৮০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। সবজি চাষে প্রদর্শনী ও প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। সবজি থেকে এ বছর কৃষকরা ভালো মুনাফা অর্জন করবেন। এজন্য কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’