সচেতনতা বৃদ্ধি ও যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া গেলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ জন্য টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ হওয়ার পর দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আজ রাজধানীর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্ট্রঙ্গার টুগেদার: একসাথে, আরো শক্তিশালী- জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোগ হয়ে যাওয়ার পর তা নিয়ন্ত্রণের চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগেভাগে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা গেলে এবং যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা কমানো সম্ভব।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে বেশি সচেতনতা রয়েছে। তবে প্রান্তিক পর্যায়ে এ বিষয়ে সচেতনতা কম। এ কারণে সেখানে জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনাও বেশি দেখা যায়। তাই শহরের পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়েও জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এ লক্ষ্যে আগের মতো সারা দেশে কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।
জনগণের কল্যাণ ও জনস্বার্থেই সরকারের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষ এখন খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা প্রাণী রোগমুক্ত ও নিরাপদ কিনা, সে বিষয়েও সচেতন হচ্ছে। প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাও সরাসরি জড়িত। তাই প্রাণিস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের প্রান্তিক অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে রোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কৃষক ও খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে আরো বেশি সেমিনার, প্রচার-প্রচারণা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নেয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন। এসময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। বক্তব্য দেন পরিচালক (সম্প্রসারণ) ড. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. আ মান্নান মিয়া এবং পথ কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ বিস্তার রোধ প্রকল্পের পরিচালক ডা. মেহেদি হাসান ভূঁইয়া। প্রবন্ধে দেশে জলাতঙ্কের পরিস্থিতি, রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম, কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
এর আগে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, ভেটেরিনারিয়ান, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা অংশ নেন।










