রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে আলোচনার ঝড় থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। বেশ কয়েকবার তারিখ ঘোষণার পরেও প্রকাশ করা হয়নি তফসিল বা খসড়া ভোটার তালিকা। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ১৩ এপ্রিল চূড়ান্ত বিধিমালা, ২৯ এপ্রিল খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ও ৩০ জুন তফসিল ঘোষণার কথা ছিল। নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল জুনের তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহে। তবে এসবের কোনোটিই এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করলেও ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ জানায়নি।

রাকসু নিয়ে ছাত্রসংগঠনের নেতারা হতাশা প্রকাশ করলেও অনেকেই নতুন প্রশাসনের প্রতি আশাবাদী। ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি রাকিব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি। নতুন প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। রাকসু নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সামনে আসবে।

ছাত্রশিবিরের রাবি শাখার সভাপতি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, রাকসু নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখলেই একটি মহল তা ঠেকাতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব মহলের প্রভাবের কারণে নির্বাচনের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। তার অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে পারেনি।

রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমরা এমন একটি রাকসু চাই যেখানে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু সহিংসতা থাকবে না। গণতান্ত্রিক ও সক্রিয় একটি ছাত্র সংসদ গঠনের দাবিও জানান তিনি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব বলেন, সব প্রস্তুতি থাকার পরও অজানা কারণে তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে না। তিনি দ্রুত তফসিল ঘোষণার পাশাপাশি গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর আহ্বান জানান।

রাকসু নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি শেষ। তবে নিরাপত্তা বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। তিনি বর্তমানে বাইরে থাকায় তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ রাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। তখন ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন ছাত্রদলের রিজভী আহমেদ। এরপর দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে রাকসু নির্বাচন হয়নি।