সুনামগঞ্জের ছাতকে নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না কিছুতেই। একাধিকবার সংঘর্ষ, মামলা-গ্রেফতার, প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও পণ্যবাহী নৌযান থেকে চাঁদা আদায় অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সমিতির নামে, এমনকি ছাতক নৌবন্দরের ইজারাদারদের নামেও চলছে চাঁদা আদায়। চাঁদাবাজিতে একাধিক জনপ্রতিনিধি জড়িত থাকারও অভিযোগ উঠেছে।

সিলেটের কানাইঘাট, জাফলং, বিছনাকান্দি, কোম্পানীগঞ্জ থেকে পাথর, চুনাপাথর ও কয়লাবাহী বিভিন্ন নৌযান নৌপথে ছাতক হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। প্রতিদিন শ’খানেক নৌযান এ পথ দিয়ে চলাচল করে। বর্ষা মৌসুমে নৌযান চলাচল আরো বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ছাতকের কয়েকটি পয়েন্টে এসব নৌযান আটকিয়ে চাঁদা আদায় করে সংঘবদ্ধ চক্র।

এ নৌপথে নিয়মিত পণ্য পরিবহন করা একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ছাতক নৌবন্দরের ইজারা প্রদানের শর্তে নৌযান থামিয়ে পণ্য উত্তোলন বা খালাস করা হলে শুল্ক আদায়ের কথা বলা আছে। কিন্তু ইজারাদাররা চলতি নৌকা থেকেও অর্থ আদায় করেন। প্রতি ঘনফুট পণ্যের বিপরীতে ২৫ পয়সা করে আদায়ের শর্ত থাকলেও তারা আরো বেশি আদায় করেন। নৌযান শ্রমিকদের হয়রানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া ছাতক পৌরসভা ও শাহজালাল সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন সমিতির নামেও চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি কার্গো জাহাজ থেকে দেড় থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে চাঁদাবাজরা। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার পর্যন্ত সুরমা নদীর ইছাকলস, চেলা নদীর মুখ, থানাঘাট, চাঁদনীঘাট, পেপারমিল ঘাট, নোয়ারাইঘাট, বারকাপন, মুক্তিরগাঁও, বউলার মুখ, জামুরায়সহ কয়েকটি পয়েন্টে এ চাঁদা দিতে হয় নৌযানগুলোকে।

জানা গেছে, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একাধিকবার চাঁদাবাজদের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ-গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এরপর পুলিশ তত্পর হলে কিছুদিন বন্ধ থাকে চাঁদাবাজি। পুলিশি তত্পরতা স্তিমিত হয়ে এলে আবার শুরু হয় তা। চলতি মাসেই নৌযান থেকে চাঁদা আদায়কালে ছাতকে অভিযান চালিয়ে দুটি ইঞ্জিন নৌকাসহ সাতজনকে আটক করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। এরপর গোয়েন্দা শাখার এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৫ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় মামলা করেন।

নৌপথে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আদায়ে পুলিশের সম্পৃক্ততারও অভিযোগ রয়েছে। ছাতক নৌবন্দরের ইজারাদারও এমন অভিযোগ করেছেন।

বরকতিয়া ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান ছাতক নৌঘাট ইজারা নিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অংশীদার ও নৌবন্দরের ইজারাদার এখলাস খান নৌপথে চাঁদাবাজির অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, চারটি সমিতির নামে এ