২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আবাদ হয় আলুজাতীয় ফসল কাসাভা। তখনো ফসলটি কৃষকদের কাছে একেবারেই অচেনা। ফলে এটির আবাদ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন স্থানীয়রা। তবে ধীরে ধীরে লাভজনক ফসল হিসেবে ফসলটির কদর বেড়েছে। কৃষকরা ফসলটি উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নে ৩৫০ হেক্টর পাহাড়ী ঢালু জমিতে কাসাভা চাষ করেছে স্থানীয় অনেক কৃষক। পাহাড়ী জমি ঢালু হওয়ায় পানি জমতে পারে না। তাই ফলনও ভালো হয়েছে। আগামীতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে এখানকার কৃষকদের। ধারণা নিয়ে এবার নতুন করে আবাদের উদ্যোগও নিয়েছেন অনেকে।
কাসাভা মূলত হলো মূল জাতীয় ফসল। এটি মিষ্টি আলু ও গোল আলুর মতো দেখতে। স্থানীয়ভাবে এটি ঠেংগা আলু, কাঠ আলু শিমুল আলু নামে পরিচিতি পেয়েছে। এটির রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। তাই কদরও বেশি। এটি দিয়ে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন হয়। ব্যবহার হয় ওষুধের কাঁচামাল হিসেবেও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে স্থানীয় এক থাইল্যান্ডপ্রবাসী করেরহাট ইউনিয়নের ঘেরামারা এলাকায় প্রথম কাসাভা চাষ শুরু করে। প্রথম পর্যায়ে কৃষকরা চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ না করলেও এখন ধীরে ধীরে কাসাভা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জিত সাহা জানান, কাসাভা চাষে খরচ কম। বর্ষা মৌসুমে কাসাভা রোপণ করা হয়। এটি ৫-৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। গত ৮ বছর আমি এটি চাষ করে আসছি। চলতি বছর তিন একর জমিতে কাসাভা চাষ করেছি। ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি, ২৫-৩০ টনের মতো কাসাভা উৎপাদন হবে। এক বছরের মধ্যে কাসাবা বিক্রির উপযোগী হয়ে যায়। প্রতি টন কাসাভা ১০-১২ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির দেয়া হাইব্রিড জাতের বীজ দিয়ে কাসাভা চাষ হচ্ছে।
করেরহাট ইউনিয়নের ঘেড়ামারা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালু জমিতে শোভা পাচ্ছে সারি সারি কাসাভা গাছ। এ সময় কথা হয় চাষি মোক্তার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কাসাভা আসলে কী, তা এখনো স্থানীয় অনেকের কাছেই অজানা। অথচ বড় বড় কোম্পানিগুলো কাসাভা নিয়ে গু্লকোজ, চিপস বানাচ্ছে, ওষুধের কাঁচামালও তৈরি করছে। মূলত লাভের জন্য স্থানীয়রা অজানা এ ফলটি চাষ করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, করেরহাট ইউনিয়নের ঘেরামারা এলাকায় কাসাভা চাষ হয়ে থাকে। কাসাভায় রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ। উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত কার্বোহাইড্রেডসমৃদ্ধ ফসল এটি। কাসাভা রুটি, বিস্কুট, চিপস, গ্লকোজ, সাগু, বিয়ার, পোলট্রি ফিড, বস্ত্র ও কাগজ তৈরির শিল্পে প্রচুর ব্যবহার হয়।










