ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থীকে স্থানীয় বখাটেরা মারধর করার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মাইকিং করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় এমন কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রক্টর শাহাদৎ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে হঠাৎই বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। কখনো কখনো তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হট্টগোলেও লিপ্ত হচ্ছে। তাই এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। 

একটি ঘটনার জেরে গত সোমবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজারে স্থানীয় বখাটেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করে। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয় বলেও অভিযোগ এসেছে। আহতরা বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনা জানাজানি হলে বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন মহাসড়ক অবরোধ করে। বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থী হামলার বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসসহ তিন দফা দাবি নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালান। তাতেও কাজ না হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এইচএম আলী হাসান ইবি থানায় রাত ১টার দিকে একটি মামলা করেন। এরপর অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, মামলায় যে দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের একজন ঝন্টু প্রামাণিক। তাকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী বসন্তপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘‌বহিরাগত বখাটেরা ক্যাম্পাসে প্রায়ই সমস্যা তৈরি করছে। এদের অনুপ্রবেশ সীমিত করা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেটাই করেছে।’