বগুড়ার মাঠে মাঠে ধান কাটার প্রস্তুতি চলছে। কোথাও আবার ধান কাটা শুরু হয়েছে। আমন ধান কাটার সময় না হলেও আগামজাতের ধান কেটে সে জমিতে আলু চাষের জন্য জমি তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষীরা। চলতি বছর জেলায় সাড়ে ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আর ফলন ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টন।

শীতের প্রায় সবজি বাজারে দেখা গেলেও নতুন আলু দেখা যায়নি। মাঠে মাঠে আলুচাষীরা জমি তৈরি ও বীজ বপন শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্বিগুণ ফলন পাবেন চাষীরা।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন জানান, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৭১০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে। এ আলু আগামী কয়েকদিন পর বাজারে উঠবে। নতুন আলু দিয়েই নবান্ন অনুষ্ঠান হবে। মৌসুমের শুরুতে নবান্নকে ঘিরে কৃষক আগাম আলু চাষ করেন। নতুন আলু বাজারে উঠলে হিমাগারের পুরনো আলুর কদর থাকে না। তাই অধিক লোকসান ঠেকাতে হিমাগারের আলু তাড়াতাড়ি বিক্রি করে দেন তারা। চলতি বছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৬৯০ হেক্টর। আর ফলন পাওয়া যাবে ১২ লাখ ২০ হাজার ১৮ টন। বৃষ্টিপাত না হলে আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শেষ পর্যন্ত ফলন বেড়ে যেতে পারে। গত বছর প্রায় ১২ লাখ টন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও সেখানে আলু উৎপাদন হয় ১৩ লাখ টন। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সাড়ে ১২ লাখ টনেরও বেশি আলু উৎপাদন হবে। এখন পর্যন্ত চাষী পর্যায়ে যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হবে। বগুড়া ও তার আশপাশের জেলায় যে পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়ে থাকে তা বিদেশের বাজারে দিতে পারলে একটি আলুও অবিক্রীত থাকবে না। এতে বগুড়ার চাষীরা আলুর দামও ভালো পাবেন।

আলুচাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর আলু বীজের দাম বেশি হলেও সংকট নেই। তবে সার ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে। ফলে বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ বেড়ে গড়ে ১০-১৩ হাজারে দাঁড়াবে। আগাম বাদ দিয়ে পূর্ণ মেয়াদে ৬০-৭০ দিনে এ আলু তুললে বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ ৮০ মণ আলু পাওয়া যাবে। কোনো কোনো জমিতে আবার ৭০ মণ আলু পাওয়া যেতে পারে।

বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, চাষীরা জমি তৈরি করে আলু বীজ বপন করছেন। মাঠে মাঠে আলুচাষীরা জমি তৈরি করার পর বেড বেঁধে দিচ্ছেন। আর আগাম জাতের আলুচাষীরা আলু আবাদ করে ফলনের দিকে তাকিয়ে আছেন।

বগুড়া সদর উপজেলার আশোকোলা গ্রামের আলুচাষী ফারুক হোসেন জানান, খোলাবাজারে বর্তমানে আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬-১৮ টাকা কেজি। বাজারে এখনো আলুর দাম কম। নতুন আলু চাষের পর বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে একই দাম থাকলে খুব বেশি আয় করা যাবে না। চাষের পর ভালো আলু পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দাম নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বাজারে এখন বীজ আলু পাওয়া যাচ্ছে। বীজ আলু সংগ্রহ করে চাষীরা জমিতে বপন শুরু করেছেন।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক জানান, ভালো দাম পাওয়া যায় বলে আগাম জাতের আলু চাষ করা হয়েছে। অক্টোবর মাসে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের কারণে আলুর খেত কিছু নষ্ট হয়েছে। সে কারণে আগাম জাতের আলুর ফলন কমে যাবে। তবে মূল মৌসুমের আলু চাষের আবহাওয়া এখন পর্যন্ত ভালো আছে। আমন ধান কাটার পর পুরোপুরি আলু চাষ শুরু হবে।