বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গতকাল একদিনেই বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম এরই মধ্যে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার ছাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের এ বাজার ঊর্ধ্বমুখিতার জন্য লোহিত সাগরের সংঘাতকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। 

যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে হুথি বিদ্রোহীদের ওপর বৃহস্পতিবার রাতভর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এর জবাব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে হুথিরাও। এ অবস্থায় সংঘাত কতদিন স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছেন না কেউই। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ সংঘাত যতদিন চলবে, জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের জ্বালানি পণ্যের বাজারমূল্যেও অস্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। অসম্ভব হয়ে পড়বে লোহিত সাগর-সুয়েজ খাল-ভূমধ্যসাগর রুট দিয়ে পণ্য পরিবহনও। বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে যাচ্ছে জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে। লোহিত সাগরের এ সংঘাতের ফলে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর সঙ্গে হুথিদের পৃষ্ঠপোষকতার দায়ে অভিযুক্ত ইরানের উত্তেজনাও এখন বাড়ছে। এতে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়েও পণ্য পরিবহন অব্যাহত রাখা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। লোহিত সাগরের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সত্তরের জ্বালানি সংকট বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও দ্বিগুণ-তিন গুণ প্রভাব ফেলবে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষত তৈরি করতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা পর্যবেক্ষকদের। 

বাংলাদেশে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরাও মনে করছেন, এ সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর বড় অভিঘাত দেখা যাবে। তাদের ভাষ্যমতে, লোহিত সাগর সংকট উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে দেশের ভোক্তাদের চাপকেও আরো প্রকট করে তুলতে পারে। মোট বিশ্ব বাণিজ্যের ১৫ শতাংশই হয় এ নৌ-রুটটি দিয়ে। নৌপথে বাংলাদেশ-ইউরোপের পণ্য আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রায় পুরোটাই হয় এখান দিয়ে। এ রুটে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়া ও এর প্রভাবে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজার অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে তীব্র হয়ে উঠতে পারে মূল্যস্ফীতি। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত-উপখাত। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌বাংলাদেশের জ্বালানির বার বার দাম বেড়েছে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতিমালার কারণে আমাদের এখন এক ধরনের ক্রান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষকে বার বার সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এখন এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে আবারো পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অনেক মারাত্মক হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘‌দূরদর্শিতার অভাব ও আমদানিনির্ভরতার কারণে উদ্যোক্তাদের ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে যানবাহন, কৃষি উৎপাদন ও গৃহস্থালি পর্যায়েও বার বার খরচ বেড়েছে। যখনই বিশ্বে ভূরাজনৈতিক সমস্যা দেখা দেয়, তখনই দেশের জ্বালানিসহ সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। এমন ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার অভিঘাতের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের সে সক্ষমতা তৈরি করা হয়নি।’ 

তবে লোহিত সাগরের সংঘাত নিয়ে আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপমুখী তৈরি পোশাকবাহী জাহাজগুলো ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করে লোহিত সাগর-সুয়েজ খাল হয়ে। এ পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদে নানামুখী প্রতিবন্ধকতায় পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, লোহিত সাগর রুটে পণ্য পরিবহনকারী জাহাজগুলোকে এখন ইউরোপে যাতায়াত করতে হবে গোটা আফ্রিকার দক্ষিণ ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ আটলান্টিক উপকূল ঘুরে। এতে যাত্রাপথ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়তে যাচ্ছে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয়। চলমান সংঘাত সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি ইউরোপের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রফতানিতে ব্যয় বাড়িয়ে দিতে যাচ্ছে বহুলাংশে। বাড়তে যাচ্ছে জ্বালানি ও পরিবহনসহ অন্যান্য খরচও। আবার ক্রেতাদের সময়মতো পণ্য ডেলিভারি দেয়া নিয়েও বড় ধরনের বিপাকে পড়তে হতে পারে রফতানিকারকদের। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর তৈরি পোশাক আমদানিতে সবচেয়ে বড় উৎস বাংলাদেশ। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এখানকার ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। ইইউর পরিসংখ্যান অফিস ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ইইউ অঞ্চলে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে সাড়ে ১৭ শতাংশের বেশি। এ নিম্নমুখী ধারা বজায় রয়েছে এখনো। এর মধ্যেই আবার লোহিত সাগরে শুরু হয়েছে সংঘাত। এতে ইউরোপে রফতানি বজায় রাখা নিয়ে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে উদ্যোক্তাদের মধ্যে।

তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌হুথিদের আক্রমণ এবং তাদের ওপর পাল্টা আক্রমণের কারণে সুয়েজ খালের ওপর দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে আফ্রিকা হয়ে ঘুরে যেতে হবে। এতে আমাদের বীমা ব্যয় বাড়বে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। সময় বেশি লাগবে। জাহাজ ভাড়াও বেড়ে যাবে। পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতার বেঁধে দেয়া নির্ধারিত সময়ে পণ্যও পাঠাতে পারব না। এতে আমাদের ব্যবসায়িক খরচ ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলোর প্রভাব—দুই-ই বাড়বে।’ 

তিনি বলেন, ‘‌আজকের উন্নত বিশ্বে সবাই সবার ওপর নির্ভরশীল। এর জন্য আমাদের একার পক্ষে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। আমরা কী সিদ্ধান্ত নেব তা নিয়েও কিছু এখনো বলা যাচ্ছে না। একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এ যুদ্ধ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা-ও আমরা জানি না। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে। সময় অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।’

বিশ্বব্যাপী দৈনিক জ্বালানি তেল পরিবহনের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় লোহিত সাগর দিয়ে। এখান দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়াকে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের ব্যাঘাত হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক বাজারে এরই মধ্যে ব্যাপক মাত্রায় ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে পণ্যটির মূল্য। দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ হয় আমদানির মাধ্যমে। ডলার সংকটের কারণে এরই মধ্যে একক আমদানিকারক সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। এমনকি বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় জাহাজে ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ডের (অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় পণ্য খালাস আটকে দেয়া) ঘটনাও ঘটেছে। এ মুহূর্তে পণ্যটির দাম যদি আরো বাড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে জ্বালানি তেল আমদানিতে সংস্থাটির চাপ-বিড়ম্বনা আরো বেড়ে যাবে। 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে ২০২২ সালের আগস্টে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিপিসি। পরে জ্বালানি বিভাগ তা কিছু মাত্রায় সমন্বয় করলেও দাম উচ্চপর্যায়েই থেকে যায়। সে সময় এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধিজনিত কারণে বিপিসির লোকসান দেয়ার কথা। সে সময় সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ৮ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বিপিসির। ওই লোকসান কমাতে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল বলে মনে করে সংস্থাটি। তবে পরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও জ্বালানি তেলে মূল্য সমন্বয় করা হয়নি। এরপর জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যে বিপিসির মুনাফা হলেও তা দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ানোয় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যদি আবার এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা দেয় তাহলে তা বিপিসি থেকে শুরু করে ভোক্তাসাধারণসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। 

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বিপিসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌আমরা বর্তমানে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজন হলে আমাদের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত জ্বালানি বিভাগে সরবরাহ করা হবে।’

লোহিত সাগরের বর্তমান পরিস্থিতি গোটা ভূমধ্যসাগরকেন্দ্রিক বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের অভিঘাত তৈরি করবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের নৌবাণিজ্যের প্রায় পুরোটাই ভূমধ্যসাগরকেন্দ্রিক। দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কসহ ইউরোপের নৌযোগাযোগের বৃহদাংশ সংঘটিত হয় লোহিত সাগরের ওপর দিয়ে। এজন্য দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্যবাহী জাহাজ আরব সাগর থেকে এডেন উপসাগর হয়ে বাব এল মানদেব প্রণালি দিয়ে প্রবেশ করে লোহিত সাগরে। তারপর এসব জাহাজ সুয়েজ খাল পেরিয়ে পড়ে ভূমধ্যসাগরে। শুধু ভূমধ্যসাগর-তীরবর্তী দেশগুলো নয়, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলসহ ইউরোপের উত্তরাংশের দেশগুলোর সঙ্গেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নৌযোগাযোগের প্রধানতম রুট হলো লোহিত সাগর—সুয়েজ খাল-ভূমধ্যসাগর রুট। এক্ষেত্রে জাহাজগুলোকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে জিব্রাল্টার প্রণালি ও ইবেরিয়ান উপদ্বীপের (স্পেন ও পর্তুগাল) উপকূল দিয়ে চলাচল করতে হয়। 

সুয়েজ খাল খননের আগে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর সঙ্গে নৌবাণিজ্যের জন্য পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে আফ্রিকার দক্ষিণ ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ আটলান্টিক উপকূল ঘুরে জিব্রাল্টার প্রণালি হয়ে ভূমধ্যসাগরে ঢুকতে হতো। আর যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যে ইবেরিয়ান উপদ্বীপের উপকূল পর্যন্ত যেতেও আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলের প্রায় পুরোটা পাড়ি দিতে হতো। সুয়েজ খাল খননের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে ওঠে লোহিত সাগর। দূরত্ব কোনো কোনো স্থানে অর্ধেক এমনকি এক-তৃতীয়াংশেও নেমে আসে। আরব সাগর থেকে লন্ডনের দূরত্ব কমে যায় ৮ হাজার ৯০০ কিলোমিটার বা সাড়ে পাঁচ হাজার মাইল। 

গত বছর গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর বাব এল মানদেব প্রণালিসহ লোহিত সাগর উপকূল দিয়ে পরিবাহিত পণ্যবাহী জাহাজে হামলা শুরু করে হামাসের মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার সারা রাত ইয়েমেনের ১৬ স্থানে বিমান ও নৌ হামলা চালায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে পাল্টা আঘাত ও হামলা জোরদারের হুমকি দিয়েছে হুথিরাও। এ অবস্থায় লোহিত সাগর রুটে নৌচলাচল এখন এক প্রকার বন্ধ হওয়ার পথে। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য খাতসংশ্লিষ্টরা এখন বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বেগে পড়েছেন। তাদের ভাষ্যমতে, লোহিত সাগর-সুয়েজ খাল-ভূমধ্যসাগর রুট বন্ধ হয়ে গেলে তা গোটা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।