ভারতের মেঘালয়ে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরের বর্ধিত গুরমার হাওরে পানি প্রবেশ করছে। স্থানীয়দের হিসাবে, এতে হাওরটির প্রায় ছয় হাজার হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারি হিসাবে এ হাওরের মোট আয়তন ১ হাজার ১০ হেক্টর। এছাড়া জেলার সাতটি উপজেলার ১৬টি হাওরে বাঁধ ভেঙে এখন পর্যন্ত ছয় হাজার হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
সর্বশেষ গতকাল সকালে তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ারসংলগ্ন বর্ধিত গুরমার হাওরের ২৭ নং প্রকল্পটি ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, সকাল ৮টার দিকে টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। পরে পাটলাই নদীর পানি বেড়ে বর্ধিত গুরমার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ২৭ নং প্রকল্পটি ডেবে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে।
হাওরের কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। এতে তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার খাউজ্যাউরি, নোয়াল, আইন্যা, কলমা ও গলগলিয়াসহ ১০টি হাওরের প্রায় ছয় হাজার হেক্টর বোরো ফসলের জমি ডুবে যাচ্ছে।
এদিকে এখনো তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লাসহ জেলার শতাধিক হাওররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। অনেক বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে হাওরের ধান রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত জেলার সাতটি উপজেলার ১৬টি হাওরে বাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে ছয় হাজার হেক্টর বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত হাওর ও হাওরের বাইরে মোট ৪৮ হাজার হেক্টরের বোরো ধান কাটা হয়েছে। ধান কাটার জন্য পাঁচ শতাধিক হারভেস্টার মেশিন রয়েছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরের কৃষক আহমেদ কবির বলেন, এ হাওরে তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার ছোট ছোট ১০টি হাওর রয়েছে। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে এখন কাঁচা ও আধাপাকা ধান কেটে নিতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, হাওরে ধান এখনো পাকেনি। এ অবস্থায় ধান কেটে নেয়া হলে তার চার ভাগের তিন ভাগই নষ্ট হবে। খুব বেশি হলে এক ভাগ কাজে লাগানো যেতে পারে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবীর বলেন, নদ-নদী ও হাওরের পানি ক্রমেই বাড়ছে। এরই মধ্যে পাটলাই নদীর পানি বেড়ে উপচে গিয়ে গুরমার হাওরের বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে। ওয়াচ টাওয়ারসংলগ্ন বাঁধে মাটি ও বাঁশের চাটাই দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করছি আমরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, গুরমার হাওরের বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে। এ হাওরে আমাদের ১ হাজার ১০ হেক্টর জমি রয়েছে। হাওরে কিছুদিন ধরেই কৃষকরা ধান কাটছেন। মূলত কোথাও কোথাও পানি প্রবেশ করতে শুরু করায় ও আগাম বন্যার পূর্বাভাসে তারা ধান কেটে নিতে শুরু করেন। তার পরও কৃষি বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ধান রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলায় এ পর্যন্ত হাওর ও হাওরের বাইরে মোট ৪৮ হাজার হেক্টর ধান কাটা হয়েছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা আশা করছি আগামী এক সপ্তাহ বা ১০ দিনের মধ্যে হাওরের ধান কাটা শেষ করা সম্ভব হবে। তিনি কৃষকদের আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ধান কাটার জন্য শ্রমিক সংকট নেই বলেও জানান। এছাড়া অন্য বছরের চেয়ে বেশি হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার হচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। এজন্য দ্রুত কৃষকদের হাওরের ধান কেটে নিতেও পরামর্শ দেয়া হয়।










