প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকার অজুহাতে ঠাকুরগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবাপ্রত্যাশীরা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দিনভর পাসপোর্ট অফিসে বসে থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। বাধ্য হয়ে দালালের কাছে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করছেন পাসপোর্ট গ্রাহক ও সেবাগ্রহীতারা।

দপ্তরটিতে সেবার চেয়ে ভোগান্তিই বেশি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তোভোগীরা। তীব্র জনবল সংকটের কারণেই এমন সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। মাত্র তিনজন কর্মচারী দিয়েই চলছে এ অফিসের সব কাজ। আউটসোর্সিংয়ের নিযুক্ত রয়েছেন আরো দুই-তিনজন। অনেক সময় পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করা হচ্ছে নিরাপত্তা প্রহরীর মাধ্যমে।

সম্প্রতি সরেজমিনে ঠাকুরগাঁও শহরের ইসলামবাগ এলাকায় পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের কোনো কর্মচারী নেই। পাওয়া যায়নি অফিসের পিয়নকেও। পাসপোর্টের জন্য আসা অনেক গ্রাহককে অফিসে বসে থাকতে দেখা যায়।

জেলার রানিশংকৈল থেকে পাসপোর্ট করতে আসা রাজিব হাসান বলেন, সকাল ১১টায় অফিসে এসেছি এখন দুপুর ১টা, কিন্তু কারো দেখা নেই। দু-একজনের দেখা পাওয়া গেলেও তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা কিছুই বলছে না। ভাব দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের দেখে তারা বিরক্ত। চাচ্ছেন আমরা যেন দালালের কাছে যাই।

ভুক্তোভোগীরা জানান, দুই ঘণ্টা ধরে পাসপোর্ট অফিসে বসে আছি, একজন লোকও নেই। এমন গুরুত্বপূর্ণ অফিস এভাবে ফাঁকা ফেলে রাখার অর্থ দায়িত্বে অবহেলা। অফিসের পরিচালককে কয়েকবার কল দিয়েছি উনিও ফোন রিসিভ করেন না। অফিসে কার সঙ্গে কথা বলব কোনো উপায় পাচ্ছি না। পাসপোর্ট করতে এসে এত ভোগান্তিতে পড়েছি বলার কিছু নেই। ভোগান্তি থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ বিষয়গুলো দেখার জন্য।

অভিযোগের বিষয় নিয়ে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক শওকত কামালের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমিসহ আরো দুজন এ অফিসে কাজ করছি। বাকি যারা কাজ করেন, তারা সবাই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিযুক্ত। এত বড় অফিস তিনজন মানুষ দিয়ে পরিচালনা করার জন্য এ সমস্যাগুলো হচ্ছে।