কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতার কারণে পাবনা মানসিক হাসপাতালে জহুরুল (৪৩) নামের এক রোগী গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের জানালার সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন জহুরুল। এ সময় সেখানে দুজন নার্স ও একজন ওয়ার্ডবয় কর্মরত ছিলেন। জহুরুল চাঁপাইনবাবগঞ্জের আড়াইপুর গ্রামের এহসান আলীর ছেলে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আঞ্জুমানী ফেরদৌস জানান, জহুরুলকে গত ২ মে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মানসিক হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রতন কুমায় রায়ের প্রশাসনিক অদক্ষতা ও অনৈতিক স্বার্থ হাসিলের সুযোগে কর্মরত ডাক্তার, নার্স,  ওয়ার্ডবয়সহ সংশ্লিষ্টরা কর্তব্যে অবহেলা করছেন। কিন্তু নিজ কর্মকাণ্ড ফাঁস হওয়ার ভয়ে পরিচালক কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন না। এ কারণে ঘটনার দিন কর্তব্যরত নার্স ও ওয়ার্ডবয় আগের মতো ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে ভোরে রোগী গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করলেও তারা সেটা প্রতিহত করতে পারেনি। পাবনা মানসিক হাসপাতালে পরিচালকের জন্য একটি আবাসিক ভবন থাকলেও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সে ভবনে বাস করেন না। তিনি টাচমোহর উপজেলায় আগের কর্মস্থলে বসবাস করেন এবং সেখানে সুমাইয়া মেডিকেল হলে চেম্বার করে থাকেন।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রতন কুমার রায়কে মোবাইলফোনে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তািন বলেন, এ রোগীর কোনো তথ্য আমার জানা নেই। আমি চাটমোহরে আছি। হাসপাতাল থেকে ফোনে আমাকে জানানো হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জহুরুল নামের এক রোগী আত্মহত্যা করেছেন।

পাবনা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জহুরুলের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তার আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।