অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বেহাল দশা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) পটুয়াখালী শিল্পনগরীর। পর্যাপ্ত মূলধন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে শিল্পনগরীর বিকাশ ঘটছে না। এছাড়া নামে-বেনামে বরাদ্দ নিয়ে কল-কারখানা স্থাপন না করা, বরাদ্দকৃত জমি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ কল-কারখানা না করে পরিত্যক্ত ফেলে রেখেছেন। 

অন্যদিকে খানাখন্দে ভরা রাস্তা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নানামুখী সংকটের মধ্যে চলছে পটুয়াখালী বিসিক শিল্পনগরী। দীর্ঘদিন এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ না নেয়ায় অনেক ব্যবসায়ী বিসিকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার আগ্রহ হারাচ্ছেন।

বিসিকের উদ্যোক্তা মাসুম বিশ্বাস বলেন, বেশ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকার পরও এখানে ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। রয়েছে সুপেয় পানির সংকট। এ অবস্থায় শ্রমিক নিয়ে কাজ করতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সত্রে জানা যায়, ১৯৮১ সালে প্রায় ১৬ একর জমির ওপর নির্মিত পটুয়াখালী বিসিক শিল্পনগরী। সম্ভাবনাময় এ প্রতিষ্ঠানে মোট ৪৪টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, চালু আছে মাত্র ১০-১২টি শিল্প ইউনিট। তাও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। অনেক কল-কারখানার মালিক নিয়মবহির্ভূত অন্যের কাছে প্লট ভাড়া দিয়েছেন। প্রকৃত মালিকদের এখানে নামমাত্র কয়েকটি কল-কারখানা রয়েছে। অথচ নিয়ম রয়েছে বিসিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ভাড়া দেয়ার। আর এ ভাড়ার একটি অংশ পাবে বিসিক। কিন্তু কতিপয় কর্মকর্তা মোটা অংকের মসোহারা নিয়ে এ কাজের বৈধতা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া নিরাপত্তা প্রাচীর না থাকায় অরক্ষিত হয়ে পড়ছে শিল্প এলাকাটি। বিসিকের মধ্যে সন্ধ্যার পর মাদকসেবী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। সম্ভাবনাময় এ শিল্পনগরীর বেহালদশার জন্য বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা ছাড়াও অধিকাংশরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছে। তারা মনে করছেন, এ কার্যালয়ে দায়িত্বরতদের রহস্যজনক উদাসীনতার কারণে এক ধরনের লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে পটুয়াখালীর শিল্পনগরী। দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিসিকের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে এমন দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্রের দাবি, মোটা অংকের লেনদেনের মাধ্যমে অলফা গ্রুপ, বায়োজিন ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বরাদ্দ সীমাবদ্ধ রেখে পরিকল্পিতভাবে লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া বরাদ্দ করা সম্পত্তি বন্দক রেখে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে মোটা অংকের লুটের ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

পটুয়াখালী বিসিক শিল্পনগরীর সম্পত্তি সহকারী মহাব্যবস্থাপক আল আমিন জানান, আইনি ফাঁকফোকরের কারণে লুটেরাদের সঙ্গে পেরে উঠছেন না। তিনি বলেন, ‘এখানে আমার কোনো হাত নেই।’