বন্যা, খরা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হয় কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষকে। বর্ষায় নৌপথ আর শুকনো মৌসুমে সড়কপথই যোগাযোগের মাধ্যম। এমনই একটি চর নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের চর কৃঞ্চপুর। চরে সরকারি রেকর্ডভুক্ত একটি রাস্তা থাকলেও তা মেরামতে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে চরের বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছেন।

চরের বাসিন্দারা বলছেন, চরে ভুট্টা, কাউন, গমসহ সব ধরনের ফসল উৎপাদন হলেও তা বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে। কারণ যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় হাটবাজারের তুলনায় প্রতি মণ ফসল বিক্রি করতে হয় ১০০-১৫০ টাকা কমে। সরকারিভাবে সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় নিজেরাই সড়ক বানাচ্ছেন। সড়কের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সবকিছুতে পিছিয়ে পড়ছে চরের মানুষ। উৎপাদিত পণ্যও বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে৷ অনেক বছর ধরে সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও কাজ হয়নি। এমন একটি রাস্তা তৈরি করতে তাদের অনেক টাকার প্রয়োজন হবে। এক মাস আগে নিজেরাই কমিটি গঠন করে নিজেদের শ্রম আর টাকায় রাস্তাটির কাজ শুরু করেন। তাদের গড়া সড়ক নির্মাণ কমিটিই তত্ত্বাবধানের করছে কাজ।

কৃঞ্চপুর চরের আবেদ আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার প্রায় ১২ হাজার মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে। গ্রামে যাতায়াতে রাস্তা নেই। বছরের বেশির ভাগ সময় বন্যা আর বৃষ্টিতে কষ্ট করতে হয়। সে সময় যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকে না। শুকনো মৌসুমে খেতের আইল দিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের। ছেলেমেয়েরা যোগাযোগের অভাবে লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং 

সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা হয়নি।

চরের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুব আলী বলেন, ‘সড়কটি নির্মাণে অনেকের কাছে গিয়েছি। সবাই কথা দিয়েছেন, কিন্তু কাজ করেনি। তাই আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা জানি একটা সড়কের জন্য আমাদের কত কষ্ট করতে হয়। বন্যা এবং বৃষ্টির মৌসুমে ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। প্রসূতি মায়ের জরুরি চিকিৎসা করাতে পারি না। সড়কটি নির্মাণ হলে সব সমস্যার সমাধান হবে। এছাড়া সড়কটি বন্যার সময় বাঁধেরও কাজ করবে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ জানান, চর কৃষ্ণপুরবাসী সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে সড়ক নির্মাণ করছেন। এটি প্রশংসনীয় কাজ। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে।