করোনাকালীন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর আগস্টে জাতীয় জাদুঘর খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে কাউন্টারে টিকিটের পরিবর্তে অনলাইনে ই-টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা, শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকে। জাতীয় জাদুঘরে প্রবেশ করতে অনলাইন থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু অনলাইন টিকিট নতুন বিড়ম্বনা হয়ে দেখা দিয়েছে ঐতিহ্যপ্রেমীদের জন্য। ২০ টাকার টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে ৪০ টাকায়।

জাদুঘরে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা নির্ধারিত কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। গত এক সপ্তাহে একাধিকবার সরেজমিনে দেখা যায়, অনলাইনে টিকিট না পেয়ে জাদুঘরের প্রধান ফটকে মানুষের জটলা বাঁধিয়ে অপেক্ষা করছেন। স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিল না অনেকেরই।

জাতীয় জাদুঘরে প্রায় ৯৪ হাজার নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। ৪৫টি কক্ষে প্রায় সাড়ে চার হাজার নিদর্শন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। করোনা মহামারীর আগে জাতীয় জাদুঘরে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার এবং শুক্রবার চার-পাঁচ হাজার দেশী দর্শনার্থী ঘুরতে আসতেন। জাতীয় জাদুঘরে টিকিট সংখ্যা সীমিত করায় প্রতিদিন সহস্রাধিক দর্শনার্থী এসে ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনলাইনে টিকিট না পেয়ে কালোবাজারির কাছ থেকে প্রবেশমূল্যের চেয়ে প্রায় তিনগুণ টাকা দিয়ে টিকিট কিনছেন অনেকে।

কাউন্টারে টিকিট বেচাকেনা বন্ধ দেখে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন আকলিমা আক্তার। তিনি জানান, কাউন্টারে টিকিট বন্ধ। জাদুঘরের এক কর্মকর্তা বলল, আজিজ সুপার মার্কেটে টিকিট পাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি দোকানের সামনে সাঁটানো— ‘এখানে জাদুঘরের প্রবেশ টিকিট পাওয়া যায়।’

জাতীয় জাদুঘরের আওতাধীন দেশে সাতটি জাদুঘর রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় জাদুঘরসহ স্বাধীনতা জাদুঘর, আহ্সান মঞ্জিলের ই-টিকিট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। টিকিটের সংখ্যাও সীমিত। জাতীয় জাদুঘরে প্রতিদিন এক হাজার দর্শনার্থী পরিদর্শন করতে পারবেন। স্বাধীনতা জাদুঘর ও আহ্সান মঞ্জিলে এক হাজার দর্শনার্থী পরিদর্শন করতে পারবেন। দর্শনার্থীর সংখ্যা সীমিত করে দেয়ায় অনেকে টিকিট না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন। আবার অনলাইনে টিকিট বিক্রির কারণে সব সময় টিকিট পাওয়া যায় না। একটি নির্দিষ্ট সময়ে টিকিট বিক্রি করলে কালোবাজারির একটি সিন্ডিকেট একসঙ্গে অনেক টিকিট ক্রয় করে দু-তিন গুণ মূল্যে বিক্রি করে।

কয়েকজন দর্শনার্থী অভিযোগ জানিয়ে বলেন, নিজের স্মার্টফোন থেকে টিকিট কাটতে গেলে টিকিট কাটা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে আজিজ সুপার মার্কেটে টিকিট নিতে যাই। ২০ টাকার টিকিট ৪০ টাকা দিয়ে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে একজন টিকিট বিক্রেতা বণিক বার্তাকে বলেন, জাদুঘরের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন এক হাজার টিকিট কাটা যায়। দেখা যায়, আমরাই এ টিকিটগুলো অগ্রিম কেটে রাখি। ফলে সাধারণ দর্শনার্থীরা টিকিট পান না এবং বাধ্য হয়ে আমাদের থেকে বেশি মূল্যে কিনতে হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে আহ্সান মঞ্জিলেও। দর্শনার্থীরা জানান, তাদের ভোগান্তিতে যোগ হয়েছে টিকিট সংকট এবং কালোবাজারিদের কাছে বেশি মূল্যে অনলাইনের টিকিট সংগ্রহ। সরেজমিন দেখা যায়, মূল ভবনের ডান পাশে কাউন্টারটি বন্ধ। অনলাইনে টিকিট কাটতে গেলে টিকিট পাওয়া যায়নি। টিকিটের জন্য খোঁজ করা হলে কুমারটুলী মসজিদের সামনের কম্পিউটারের দোকানে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে টিকিটের খোঁজ করা হলে কম্পিউটারের দোকানিরা আহ্সান মঞ্জিলের পাশের চায়ের দোকানের কাছে পাঠায়। ৪০ টাকার বিনিময়ে এখানে অনলাইনের ২০ টাকার টিকিট পাওয়া যায়।