আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরের প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে চারটি সংসদীয় আসনের ৪৯৬ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২১৫টিকে অতিগুরুত্বপূর্ণ তথা অতিঝুঁকিপূর্ণ ও ১৯৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ তথা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ। অবশিষ্ট ৭৩টি ভোট কেন্দ্রকে সাধারণ তথা ঝুঁকিমুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিতে আরো নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার চারটি সংসদীয় আসনের পাঁচটি উপজেলা ও ছয়টি থানায় মোট ভোট কেন্দ্র ৪৯৬টি। এসব কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ তথা অতিঝুঁকিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ—এ তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১৫টি কেন্দ্রকে অতিগুরুত্বপূর্ণ তথা অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায়। এর মধ্যে সদর থানায় মোট ১২২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৬টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ১৬টি, সাধারণ ২০টি কেন্দ্র। চন্দ্রগঞ্জ থানায় ৭৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪০টি অতিঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ২১টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ১৬টি।

এছাড়া কমলনগর থানায় ৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ, ১৬টি, ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি ও সাধারণ কেন্দ্র ৩টি, রায়পুর থানায় ৮২টি কেন্দ্রের ২৬টি অতিঝুঁকিপূর্ণ, ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র নয়টি, রামগঞ্জ থানায় ৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি অতিঝুঁকিপূর্ণ ও ৬৩টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এ থানায় একটিও সাধারণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা যায়নি। রামগতি থানায় ৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি, ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি এবং ৩৫টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও এডিএম মো. মেজবা উল আলম ভূঁইয়া জানান, এ পর্যন্ত ৪৯৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে অতিগুরুত্বপূর্ণ ২১৫টি কেন্দ্র রয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে বাকি সব কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে তফসিল ঘোষণা ও প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা চলাকালীন হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ভোটের মাত্র সাতদিন আগে সদর এলাকায় ছয়টি অবৈধ ভোটের সিল উদ্ধার হওয়ায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া নারীদের নির্বাচনী সভায় হামলা চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় ধানের শীর্ষ প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. রেজাউল করিম পাল্লাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কার অভিযোগ করেন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের ঘটনা ভোটগ্রহণকে প্রভাবিত করতে পারে।

এদিকে ৭ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অস্ত্রের মুখে ভোট ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগ তুলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। একই দিন সকালে কমলনগরে হাজিরহাট এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে ভোট কেন্দ্র দখলের আশঙ্কার কথা জানান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এআর হাফিজ উল্যাহ।

এছাড়া লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জে ধানের শীষ, শাপলাকলি ও হাতপাখা প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা এক অন্যের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা, পোস্টার ছেঁড়া ও ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার অভিযোগ তুলে দফায় দফায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ২ ফেব্রুয়ারি সদরের কুশাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনাও সাধারণ ভোটারদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।

রামগতি আলেকজান্ডার বাজার এলাকার কয়েকজন ভোটার বলেন, ‘মেঘনার উপকূলীয় রামগতি ও কমলনগর আসনের চরকাদিরা, চরআলগী, চর পোগাছা ও চররমজিসহ চরাঞ্চল ও দ্বীপচরগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় ওই সব অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথা সময়ে যেতে পারে না। এতে দখলবাজরা ভোট কেন্দ্র দখলের জন্য ওত পেতে থাকে।’

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যসহ যৌথ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এছাড়া অতিরিক্ত নজরদারি থাকবে পুলিশের। এসব কেন্দ্রে পুলিশের ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। যার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে ওইসব কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।’