সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা, রোগীদের হয়রানি বন্ধসহ স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছেন ছাত্র-জনতা। আন্দোলনের ১২তম দিন গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া ব্লকেডের কারণে রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ছয় জেলার সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে।

এর আগে কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদের গোল চত্বরের মহাসড়ক ব্লকেড করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, ‘বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নিয়ে এলে প্রতিটি ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রথমে রোগী নিয়ে আসার পর ট্রলি আনতে গেলে দিতে হয় ১০০ টাকা। নার্সদের দিতে হয় ১০০, সিস্টারদের দিতে হয় ১০০ এবং আয়াকেও দিতে হয় ১০০ টাকা। রাত ১০টার পর হাসপাতালে কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকেন না। জরুরি বিভাগেরও একই অবস্থা। মাঝেমধ্যে জরুরি বিভাগে ডাক্তার পাওয়া গেলেও তাদের অবহেলায় রোগী ও তাদের স্বজনদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। মূলত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর ভরসা করে চলছে দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা।’

তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসকদের অবহেলায় প্রায় প্রতিনিয়ত রোগীদের প্রাণহানি ঘটছে। হাসপাতালের স্টাফদের অর্থ বাণিজ্যের কারণেও রোগীর স্বজনদের পকেট খালি হচ্ছে। এ অবস্থা দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের। এ কারণে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করেছি আমরা।’

আন্দোলনকারীদের দাবি, স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য চলবে না, সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে, শেবাচিমে জনদুর্ভোগ বন্ধ করতে হবে। এসব সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার আন্দোলনে বরিশালের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা, রোগী ও তাদের স্বজনসহ সর্বস্তরের জনতা অংশগ্রহণ করেন।