মানিকগঞ্জের নাব্যতা সংকটের কারণে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ৫৬ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর সোমবার (১১ নভেম্বর) দুপুর থেকে আবার চালু হয়েছে। নদীতে ড্রেজিং করে মূল চ্যানেল থেকে পলি অপসারণের মাধ্যমে নাব্যতা রক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা আঞ্চলিক ম্যানেজার আবু আব্দুল্লাহ বলেন, নাব্যতা ফিরে আসায় দুপুর ১টার দিকে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়। প্রথমে চিত্রা, ধানসিঁড়ি ও শাহ আলী নামে তিনটি ফেরি আরিচা ঘাট থেকে ছেড়ে যায়। প্রতিটি ফেরিতে ১১টি পণ্যবাহী ট্রাক লোড করা হয় এবং ফেরিগুলো যথাসময়ে কাজিরহাট ঘাটে পৌঁছায়। এরপর খানজাহান আলী ও বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ফেরিগুলোও যাত্রা শুরু করে।

তিনি জানান, বর্তমানে এ নৌরুটে পাঁচটি ফেরি চলাচল করছে। ফেরি চলাচলের জন্য চ্যানেলে কমপক্ষে ৮ ফুট গভীরতার নাব্যতা প্রয়োজন। তবে সম্প্রতি নদীতে পানির স্তর কমে যাওয়ায় মূল চ্যানেলে ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে গত শনিবার (৯ নভেম্বর) ভোর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার নাসির মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, ড্রেজিং ইউনিটের নাব্যতা নিশ্চিত করার খবর পাওয়ার পর ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। তবে নাব্যতা কতক্ষণ থাকবে, তা বলা যাচ্ছে না। ট্রাকগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী পারাপার করা হবে।

বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং ইউনিটের আরিচা অঞ্চলের প্রকৌশলী ওসমান গনী জানান, নদীতে এখন স্রোত কম থাকায় চ্যানেলের মুখে পলি জমার আশঙ্কা কম। বিরতিহীনভাবে ড্রেজিং করে চ্যানেলের নাব্যতা ঠিক রাখা হবে। তিনি আরো জানান, এ বছর আরিচা-কাজিরহাট এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ৩৮ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে নাব্যতা রক্ষায় ২৪০ ফুট প্রস্থ এবং ১০ ফুট গভীরতার চ্যানেল তৈরি করা হবে।