যশোর চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন স্থগিত করেছেন আদালত। গতকাল এক ব্যবসায়ীর আদালতে করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা সিনিয়র সহকারী জজ সুজাতা আমিন এ স্থগিতাদেশ ও বিবাদীদের এক কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেন।

মামলাটি করেছেন মেসার্স পারভেজ ট্রেডার্সের মালিক মেহেদী হাসান (ভোটার নম্বর-৬৪২)। এ মামলায় যশোর চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসকসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, ৭ জানুয়ারি যশোর চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন। এরই মধ্যে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তিন শতাধিক ভোটারের হালনাগাদ কোনো আয়কর সনদ নেই। এবং তারা আয়কর সনদের মূল কপি দাখিল না করে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। যা বেআইনি বলে দাবি করেন বাদী। এসব অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগ দিলে তা গ্রহণ না করায় আদালতে মামলা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ আট বছর পর ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল যশোর চেম্বার নির্বাচন। এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে দুটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। মোট ১৮টি পদে ৩৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা এক মাস ধরে প্রচার চালিয়েছেন।

এ ব্যাপারে যশোর চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রফিকুল হাসান বলেন, ‘আমি মৌখিকভাবে জেনেছি নির্বাচন স্থগিত করেছেন আদালত। তবে আমরা কোনো আদেশ এখনো পাইনি। অফিস আদেশ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল যশোর চেম্বারের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৪ সালের ১২ জুলাই ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা থাকলেও তা ভেস্তে যায়। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। সেই থেকে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব পালন করছেন একজন প্রশাসক।

ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্যানেল নেতা ও যশোর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, দীর্ঘ আট বছর যশোর চেম্বারের ভোট হতে দেয়া হয় না। নানা অজুহাতে মামলা করে ভোট স্থগিত রাখা হয়। প্রার্থীদের নামে মিথ্যা মামলা করে জেলে পাঠানো হয়েছে। কারা এসব ষড়যন্ত্র করছে তা ব্যবসায়ীরা ভালো করেই জানেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে খসড়া ভোটার তালিকায় কোনো আপত্তি পায়নি নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনে রয়েছে কোনো সদস্য নির্বাচন নিয়ে আদালতে মামলা করতে পারবেন না। তাদের আপত্তি থাকলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত ট্রাইব্যুনালে আপত্তি জানাতে হবে।