কুমিল্লায় এক ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের সহযোগিতায় ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করে বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে আটক হয়েছেন দুই রোহিঙ্গা নারী। জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব রুহুল আমিন মজুমদার মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের জন্মসনদ পেতে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

বাংলাদেশী পাসপোর্টে ওই দুই নারীর ঠিকানায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা উল্লেখ ছিল। তবে গত ১১ জুন ভিয়েতনাম যাওয়ার জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তার সন্দেহ হলে থেকে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

ওই ঘটনার চার দিন পর কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) ইমাম হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই আলমগীর হোসেন। ২৭ জুন হুমায়রা ও শারমিনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনাটি তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উপজেলার ডিমাতলী গ্রামের বাসিন্দা কাজী খবীর উদ্দিন ও চিওড়া ইউপির সচিব রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ভুয়া জন্মসনদ তৈরির একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ তৈরি করে দিচ্ছে। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরিতেও সহায়তা করেন তারা।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অভিযুক্তরা রোহিঙ্গাদের ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে দিতেন। এমনকি জন্ম নিবন্ধনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এর আগেও সিন্ডিকেটের হোতা ইউপি সচিব রুহুল আমিনের নিবন্ধন আইডি একাধিকবার বন্ধ রাখে। মুচলেকা দিয়ে তিনি আইডি ফেরত পেয়ে আবার একই অপরাধ শুরু করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া রোহিঙ্গা আইডি কার্ড অনুযায়ী অভিযুক্ত ওই দুই নারীর নাম হুমায়রা ও শারমিন। হুমায়রার বাবার নাম সামসু আলম আর শারমিনের বাবার নাম নুর কামাল। তবে ২০২৩ সালে চিওরা ইউপি সচিব রুহুল ও তার সহযোগী কাজী খবীর উদ্দিনের সহযোগিতায় তারা দুজনেই নিজেদের ও তাদের বাবার নাম পরিবর্তন করেন। ভুয়া জন্মসনদে তাদের দুজনের বাবার নামই উল্লেখ করা হয় কাজী খবীর উদ্দিন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি সচিব রুহুল আমিন মজুমদার বলেন, কাজী খবীর উদ্দিন ও তার স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মেয়ে মাইমুনা আক্তার নামে এসএসসির প্রবেশপত্র অনুযায়ী জন্মসনদ দেয়া হয়েছে। সে রোহিঙ্গা কিনা তা আমার জানা নেই।

পলাতক থাকায় কাজী খবীর উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি ত্রিনাথ সাহা বলেন, দালাল চক্রের এক সদস্যসহ দুই রোহিঙ্গা নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে যারা দোষী হবেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রহমত উল্লাহ বলেন, চিওড়া ইউপি সচিব রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দিচ্ছে— এমন অভিযোগ আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।