উজানে পাহাড়ি ঢলের কারণে এ বছর বর্ষার আগেই যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী উপজেলায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুধু সদর উপজেলার চরপৌলীতে গত কয়েকদিনের ব্যবধানের এ এলাকায় প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙনের ফলে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত দুইদিনেই তিন শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে নদীর পাড়ের হাজারো মানুষের।
জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর সেতুর দেড় কিলোমিটার ভাটিতে নিউ ধলেশ্বরী নদীর মুখে (অফটেকে) পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চারটি পৃথক লটে ২৩৪ কোটি ২৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকায় ১ হাজার ৫৩০ মিটার গাইড বাঁধ (অফটেক বাঁধাই) নির্মাণ করে। যমুনার মাঝ বরাবর নতুন চর জেগে ওঠায় পানির তীব্র স্রোতের ফলে গাইড বাঁধের ১ নম্বর লটের বিভিন্ন অংশে এরইমধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। অফটেকের ভাটিতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে আলীপুর, হাটআলীপুর, ভৈরববাড়ি, বিনোদলুহুরিয়া, কুর্শাবেনু, চরপৌলী, ও উত্তর চরপৌলী গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুইদিনে ওইসব এলাকার ছয় শতাধিক ঘরবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। যমুনার ডানতীরে পাউবো স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করায় এবং যমুনার মাঝখানে নতুন চর জেগে উঠার কারণে বাম তীরে পানির তীব্র চাপের কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিনের মধ্যেই পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড গত কয়েক বছর এলাকা রক্ষায় জরুরি প্রয়োজনে (ভাঙনের সময়) জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারপরও ভাঙনের ফলে নদীর সীমানা গত বছরের চেয়ে ২৫০ মিটার পূর্বদিকে সরে এসেছে। এখন হাটআলীপুর মসজিদ, হাইস্কুল, মাদ্রাসা ও হাটআলীপুর বাজার এবং চরপৌলী মিন্টু মেমোরিয়াল হাইস্কুল, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় ওই প্রতিষ্ঠানগুলো যমুনা বিলীন হয়ে যাবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে জরুরি কাজ করে এ ভাঙন ঠেকানো যাবে না। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুত সে কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে ভাঙন কবলিত স্থানে স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু করা হবে।
ছানোয়ার এমপি বলেন আগামী বছরই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে। বর্তমানে টেন্ডার ডকুমেন্টটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। টেন্ডারটি খুব দ্রুত পাশ হয়ে যাবে। কাজেই আশা রাখছি আগামী বছরই স্থায়ীভাবে বাঁধের কাজ শুরু হবে।










