বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কিশোরী ফেলানীসহ বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা, নির্যাতন, গুম এবং ভারতের আগ্রাসী ভূমিকার প্রতিবাদে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ রাজধানীতে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০টায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধিকার-এর পরিচালক (প্রশাসন) এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান বলেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, যা পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার ভারতের প্রতি অনুগত থাকার কারণে এ ঘটনার বিচার আজও হয়নি। ফেলানীর বাবা-মা এখনো ন্যায়বিচার পাননি।
তিনি আরো বলেন, ভারতীয় শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে, অনেককে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে, নারী ও কিশোরীরা যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে এবং ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইন করা হচ্ছে। আজ বাংলাদেশে অন্তর্বতী সরকার যে অবস্থান নিয়েছে সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। ভারতের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শুধু সরকার নয়, বাংলাদেশের জনগণও রুখে দাঁড়াবে এই আশা করছি।
অধিকার-এর পরিচালক (অ্যাডভোকেসি) তাসকিন ফাহমিনা বলেন, সংগঠনের সংগৃহীত তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিএসএফ গুলি ও নির্যাতনের মাধ্যমে ৬২৫ জন বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যা করেছে। এর মধ্যে ফেলানীসহ ২৫ জন শিশু ও কিশোর রয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ৮০৮ জন। এসব হত্যাকাণ্ডের একটিরও বিচার হয়নি।
বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোর জয়ন্তের বাবা মহাদেব বলেন, ‘আমার ছেলে ভারতে থাকা নানাবাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। পরে খুঁজে খুঁজে ছেলের গুলিবিদ্ধ মরদেহ ড্রেনের মধ্যে পাই। লাশ আনতে গেলে বিএসএফ আমাকেও গুলি করে, এতে আমার পায়ে গুলি লাগে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।‘
র্যাবের হাতে গুম হওয়া রহমতুল্লাহ বলেন, ‘২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট রাতে র্যাব আমাকে আমার বাড়ি ধামরাই থেকে ধরে নিয়ে যায়। নয় মাস গোপন বন্দিশালায় আটক রেখে চোখ ও হাত বেঁধে নির্যাতন করে। পরে ভারতে পাঠানো হয়। সেখানে বিভিন্ন জেলে মোট সাড়ে সাত মাস বন্দি রাখা হয়। দেশে ফেরার পর পরিবার তাকে উদ্ধার করে। তিনি র্যাব ও ভারতের জেলে নির্যাতনের বিচার দাবি করেন।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হত্যা, নির্যাতন ও গুমের বিচার এবং ভারতের আগ্রাসী নীতির প্রতিবাদে আয়োজিত এই সমাবেশে মুক্তি কাউন্সিল এর সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, জাতীয় গণফ্রন্টের কামরুজ্জামানসহ ভিকটিম পরিবারের সদস্য, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে।










