তিনি বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব যখনই পেয়েছে তখনই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে কাজ করে গেছে। এর বড় উদাহরণ হলো, অতীতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ও সরকার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর খড়গ নেমে আসেনি। এবারো এর কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আঁকা কার্টুন তিনি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করে সেই বার্তা নির্বাচিত হওয়ার আগেই দিয়েছেন।’

গতকাল বণিক বার্তা কার্যালয়ে পত্রিকাটির প্রতিবেদক ও সহসম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, সহকারী সম্পাদক ও বিশেষ প্রতিনিধি বদরুল আলম ও প্রধান প্রতিবেদক ইমামূল হাছান আদনানসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, ‘সমাজ-রাষ্ট্র ব্যবস্থা যতদিন টিকে থাকবে গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তাও ততদিন থাকবে। সুতরাং এটিকে পাশ কাটিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে না। তবে গণমাধ্যমকেন্দ্রিক সংকট হয় যখন ডিসইনফরমেশন ও মিসইনফরমেশন ছড়ানো হয়। কিংবা প্রোপাগান্ডাকেন্দ্রিক সাংবাদিকতা করা হয়। এ ধরনের সাংবাদিকতা নয় বরং সঠিক তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা আমরা চাই।’

সাংবাদিকদের তথ্য সহজলভ্য করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন তথ্য সংবাদকর্মীদের প্রয়োজন হয়। মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি উৎস থেকে কীভাবে আরো সহজে তথ্য পাওয়া যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। খুব শিগগিরই সহজতর উপায় বের করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকেই ইশতাহারে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিংয়ের মধ্য দিয়ে সেই পথ চলা শুরু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে খাল খনন কর্মসূচি, কৃষক কার্ড, কৃষকের ঋণ মওকুফসহ অনেকগুলো জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে পড়লেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তার বিচক্ষণ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে সংকট মোকাবেলা করছেন। দেশ গঠনের এ পথচলায় গণমাধ্যমকর্মীদের আমরা সহযোগী হিসেবে পাশে চাই।’

ছালেহ শিবলী নামে সমধিক পরিচিত প্রেস সচিব দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বার্তা সংস্থা ইউএনবি, দৈনিক মানবজমিন, বাংলাবাজার পত্রিকা এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইতে রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেছেন। ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে। ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। এছাড়া তিনি কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।