জনশক্তি রফতানি, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের নয়টি দেশ সফরে যেতে চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কমিটি এসব দেশ ভ্রমণের আয়োজন করার কথা বলেছে। প্রথমে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, তুরস্ক, ব্রাসেলস, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্য পরিদর্শন করার সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গে অস্ট্রিয়া ও সুইডেনকে অন্তর্ভুক্ত করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব দেশ পরিদর্শনের কাজ সমাপ্ত করার সুপারিশ করা হয়।

গতকাল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব কথা জানানো হয়।

বৈঠকে ওই সুপারিশের অগ্রগতি উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া, পূর্ব ইউরোপ, কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটস (সিআইএস) এবং পশ্চিম ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগ সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এসব সফর আয়োজনের কার্যক্রম সমন্বয় করছে। সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, কমিটির সুবিধাজনক সময়ে তারা সফর আয়োজন করার জন্য প্রস্তুত।

এদিকে বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খান। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চীনের মধ্যস্থতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সংখ্যায় যা-ই হোক না কেন আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু হলেও যদি প্রত্যাবাসন করতে পারি সেটা একটি সফলতা হবে। একবার প্রত্যাবাসন শুরু করা গেলে ভবিষ্যতে আরো অগ্রগতি হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে কমিটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে একাধিক আসিয়ান দেশ সফর করে। ওই সফরে দেশগুলো রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার পাশাপাশি প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল।

বিদেশে বসে বাংলাদেশ সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, উসকানিমূলক ও বানোয়াট বক্তব্য প্রদানকারী প্রবাসীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে কমিটির গত বৈঠকে আলোচনা হয়। সে সময় দেশের বাইরে বসে দেশবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর কর্মতত্পরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সুপারিশ করে কমিটি।

গতকালের বৈঠকে ওই সুপারিশের বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী/অভিবাসী বাংলাদেশী ব্যক্তিরা রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে অনেক সময় ভূমিকা রাখতে পারেন। দুঃখজনক হচ্ছে, ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তাদের অনেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করে বাংলাদেশ এবং সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় লিপ্ত হন। সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, উসকানিমূলক ও সম্পূর্ণ বানোয়াট বক্তব্য প্রদানকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির/বিচারের মুখোমুখি করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবেলা ও বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং অনলাইন মিডিয়ায় নিয়মিত তথ্যবহুল সংবাদ, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ প্রকাশের বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিয়মিত প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অসত্য ও অপপ্রচারমূলক সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যবহুল প্রতিবাদলিপিসহ গণমাধ্যমে প্রকাশের ব্যবস্থা করে থাকে।

কমিটির আগের বৈঠকে বিদেশে বসে সরকারবিরোধী নানা প্রচারণার বিষয়টি নিয়ে কমিটির সদস্যরা আলোচনা করেন। ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, সরকার তথা দেশবিরোধী অপশক্তিগুলোর ক্রমাগত অপপ্রচারের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কতিপয় দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করতে শুরু করেছে। এছাড়া সুইডেনের ‘নেত্র নিউজ’ মিথ্যা ও অর্ধসত্য তথ্য মিলিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। আগামী সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশবিরোধী একটি চক্র বিদেশে বসে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারের বক্তব্যগুলো যথাযথভাবে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

কাজী নাবিল আহমেদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন মন্ত্রী ও কমিটির সদস্য এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ইউরোপের বেশকিছু দেশে সরকার তথা দেশের বিরুদ্ধে একটি চক্র ব্যাপক আকারে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এগুলো প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তিনি কমিটির পরামর্শ কামনা করেন।

বৈঠকে ফারুক খান বলেন, দেশবিরোধী চক্রের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর কর্মতত্পরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনে সংসদীয় কমিটি এ ব্যাপারে সহযোগিতা দেবে।