নরসিংদী কারাগার থেকে পালানো আরো ১৫৬ কয়েদি আত্মসমর্পণ করেছেন। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তারা নরসিংদী আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এ নিয়ে গত তিনদিনে ২৯৪ কয়েদি আত্মসমর্পণ করলেন। এর আগে সোমবার ১০ ও মঙ্গলবার ১২৮ কয়েদি আত্মসমর্পণ করেন। বাকিদের আত্মসমর্পণ করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হচ্ছে।

নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম জানান, আত্মসমর্পণকারী কয়েদিদের হলফনামায় স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। তাদের জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হকের আদালতে হাজির করা হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী কারাগারটি শহরের ভেলানগরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত। ভেলানগর ও জেলখানা মোড়ে কোটা সংস্কার দাবিতে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিনই লাগাতার বিক্ষোভ-সমাবেশ করছিলেন। শুক্রবারও সেখানে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করছিল। তবে সেদিন সেখানে শিক্ষার্থীদের খুব একটা দেখা যায়নি। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ হাজারো জনতা কারাগারের দিকে এগোতে থাকে। সেখানে প্রথমে ইটপাটকেল, পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এ সময় প্রাথমিকভাবে কারারক্ষীরা তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলাকারীরা মূল কারাগারের ভেতরে ঢুকে সেলগুলো শাবল ও লোহার জিনিসপত্র দিয়ে ভেঙে কয়েদিদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। কিছু কারারক্ষীর কাছ থেকে চাবি নিয়েও সেলের তালা খোলা হয়। হামলা ও অগ্নিসংযোগে কারাগার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অফিস কক্ষ, কনডেমড সেল, রান্নাঘর, খোলা চত্বর সব জায়গায় তাণ্ডবের চিহ্ন। দরজা-জানালা ভেঙে গেছে, দেয়ালে দেয়ালে ছিল পোড়া দাগ। হামলাকারীরা কারাগার থেকে ৮৫টি অস্ত্র ও আট হাজারের বেশি গুলি নিয়ে গেছে। এর মধ্যে সাত হাজার রাইফেলের এবং শটগানের গুলি রয়েছে ১ হাজার ৫০টি।